বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

ছায়াঢাকা সবুজ, গ্রাম শান্তিপুর। সেখানকার প্রভাবশালী পঞ্চায়েত প্রধান ছিল জুয়েল। তার মৃত্যুর পর পরবর্তী পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচন নিয়ে এক মহাসংকট দেখা যায়। গ্রামের অনেকেই ঐ পদ পাওয়ার জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। কেউ কাউকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলনা। নিজেদের মধ্যে মারামারি করে অনেক নেতাই মারা যান। এভাবে অনেকদিন পঞ্চায়েত প্রধান ছাড়াই বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে গ্রাম চলতে থাকে। গ্রামের সাধারণ মানুষ এ বিশৃঙ্খলতা থেকে মুক্তির জন্য জাহাঙ্গীরকে সম্মিলিতভাবে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচন করেন এবং শান্তিপুরে স্বস্তি ফিরে আসে। তিনি শান্তিপুরের সীমানা বৃদ্ধি করেন এবং দীর্ঘদিন পঞ্চায়েত প্রধান থাকেন।

  1. ক)

    গঙ্গারিডাই জাতির বসবাস কোথায় ছিল?

    (1)
  2. খ)

    দেবপালের সময় প্রায় হারিয়ে যাওয়া বৌদ্ধ ধর্ম সজীর হয়ে উঠে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শান্তিপুরের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের সাথে প্রাচীন বাংলার কোন অবস্থার মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "পঞ্চায়েত প্রধান জাহাঙ্গীর যেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতারই প্রতিচ্ছবি।"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    গঙ্গারিডাই জাতি গঙ্গা নদীর মোহনা বা ব-দ্বীপ অঞ্চলে বাস করত।

  2. খ)

    দেবপাল বৌদ্ধ ধর্মের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর সময় বৌদ্ধ বিহার ও শিক্ষাকেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায়। তিনি নালন্দাসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ কেন্দ্রের উন্নয়নে সাহায্য করেন এবং বিদেশি বৌদ্ধ শাসক ও পণ্ডিতদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ফলে বৌদ্ধ ধর্ম নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের শান্তিপুরে পঞ্চায়েত প্রধান জুয়েলের মৃত্যুর পর নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব, মারামারি, প্রধানহীন বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা যায়। এর সাথে প্রাচীন বাংলার মাৎস্যন্যায় অবস্থার মিল রয়েছে।

    শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন না থাকায় ক্ষুদ্র শাসকদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ ও অরাজকতা দেখা দেয়। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। শান্তিপুরের বিশৃঙ্খলা এই মাৎস্যন্যায়েরই প্রতিরূপ।

  4. ঘ)

    জাহাঙ্গীর পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের প্রতিচ্ছবি, মন্তব্যটি যথার্থ।

    ১. দুজনই অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার পর জনসাধারণ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
    ২. জাহাঙ্গীর নির্বাচিত হয়ে শান্তিপুরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন; গোপালও ক্ষমতায় এসে মাৎস্যন্যায় দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন।
    ৩. জাহাঙ্গীর সীমানা বাড়ান ও দীর্ঘদিন প্রধান থাকেন; গোপাল বাংলা ও বিহারে রাজ্য সুসংহত করেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত পাল বংশ প্রায় চারশ বছর শাসন করে।

    সুতরাং, জাহাঙ্গীর যেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালেরই প্রতিচ্ছবি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন