যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন ।দৃশ্যকল্প-২: মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী । দৃশ্যকল্প-৩: মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী ।
- ক)(1)
বিধেয় কী?
- খ)(2)
নেতিবাচক যুক্তিবাক্যে বিধেয়ক থাকে না কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের বিধেয়ককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ ও ৩ দ্বারা নির্দেশিত বিধেয়ক কি একই ধরনের? বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিধেয়ক কেবল সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। নেতিবাচক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্কের স্বীকৃতি থাকে না, বরং তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার বা বিচ্ছিন্ন করা হয়। কোনো সম্পর্ক বিদ্যমান না থাকলে তাদের মধ্যে জাতি, উপজাতি, লক্ষণ ইত্যাদির মতো কোনো বিধেয়কীয় সম্পর্ক তৈরি হতে পারে না। তাই নেতিবাচক যুক্তিবাক্যে কোনো বিধেয়ক থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ ("বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন") এ 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' নির্দেশ করে।
যে গুণ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মূল যাত্যর্থ নয়, অথচ তাকে কখনোই ব্যক্তি বা বস্তু থেকে আলাদা করা যায় না, তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে।
দৃশ্যকল্প-১-এ '১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ' বিষয়টি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যাত্যর্থ বা আবশ্যকীয় গুণ নয়, কিন্তু এটি তাঁর জীবনের এমন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বা বৈশিষ্ট্য যা তাঁর থেকে কখনো পৃথক করা সম্ভব নয়। তাই এটি বিধেয়ক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ ও দৃশ্যকল্প-৩ দ্বারা নির্দেশিত বিধেয়কদ্বয় একই ধরনের নয়; এদের মধ্যে বিধেয়কের প্রকৃতিগত পার্থক্য রয়েছে।
দৃশ্যকল্প-২-এ বলা হয়েছে: "মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী।" এখানে 'বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন' গুণটি মানুষের বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ (Differentia)। যে গুণ কোনো উপজাতিকে একই জাতির অন্তর্গত অন্যান্য উপজাতি থেকে পৃথক করে, তাকে বিভেদক লক্ষণ বলে। বুদ্ধিবৃত্তি গুণটি মানুষকে 'প্রাণী' জাতির অন্যান্য উপজাতি (যেমন: গরু, ঘোড়া ইত্যাদি) থেকে আলাদা করে।
অন্যদিকে, দৃশ্যকল্প-৩-এ বলা হয়েছে: "মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী।" এখানে 'মরণশীলতা' গুণটি মানুষের উপলক্ষণ (Proprium)। উপলক্ষণ হলো এমন এক গুণ যা যাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু যাত্যর্থ বা মূল লক্ষণ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। মানুষের জীববৃত্তি থেকে মরণশীলতা গুণটি নিঃসৃত হয়েছে।
অতএব, দৃশ্যকল্প-২-এ নির্দেশিত বিধেয়কটি হলো 'বিভেদক লক্ষণ' এবং দৃশ্যকল্প-৩-এ নির্দেশিত বিধেয়কটি হলো 'উপলক্ষণ'। সুতরাং, উভয় বিধেয়ক একই ধরনের নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও