বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

3.

উদাহরণসহ ক্রিয়া পদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর।অথবা,নিম্নরেখ যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ কর:(i) পয়লা বৈশাখ বাঙালির উৎসবের দিন।(ii) আজ নয় কাল সে আসবেই।(iii) হে বন্ধু, বিদায়।(iv) তুমি যে আমার কবিতা।(v) মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা।(vi) দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?(vii) আমিন ও সামিন দুই ভাই।(viii) এগিয়ে চলেছে প্রতিবাদী মিছিল।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ:
যে পদ দ্বারা কোনো কিছু করা, যাওয়া, খাওয়া, হওয়া ইত্যাদি কোনো কাজ সম্পাদন করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে। ক্রিয়াপদকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়:

১. ভাব প্রকাশের পূর্ণতা অনুযায়ী ক্রিয়াপদ দুই প্রকার:
(ক) সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: সে বই পড়ছে।
(খ) অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, বক্তার বক্তব্যের অপূর্ণতা রয়ে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: আমি বাড়ি গিয়ে... (ভাত খাব)।

২. কর্মের উপস্থিতি বা কর্মপদ অনুযায়ী ক্রিয়াপদ প্রধানত তিন প্রকার:
(ক) সকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন।
(খ) অকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: মেয়েটি হাসছে।
(গ) দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ থাকে (একটি মুখ্য, অন্যটি গৌণ), তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।

৩. গঠন বা অর্থগত প্রকৃতি অনুযায়ী অন্যান্য ক্রিয়াপদ:
(ক) প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া একজনের পরিচালনায় বা প্রেরণায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
(খ) যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া একত্রে মিলিত হয়ে বিশেষ কোনো অর্থ প্রকাশ করলে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: ঘটনাটি শুনে রাখো।
(গ) মিশ্র ক্রিয়া: বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পর কৃ, ভূ, হ ইত্যাদি ধাতু যুক্ত হয়ে গঠিত ক্রিয়াপদ। যেমন: মাথা ঝিমঝিম করছে।

অথবা,

নিম্নরেখ শব্দের ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ (প্রশ্নপত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট পদগুলো নিম্নরেখ থাকে; প্রচলিত প্রশ্নানুযায়ী নিম্নোক্ত পদগুলো চিহ্নিত করা হলো):
(i) বৈশাখ (বাঙালির) → বিশেষ্য ('বাঙালির' হলো বিশেষ্য পদ; অথবা 'পয়লা বৈশাখ' বিশেষ্য)
(ii) নয় / কাল → 'কাল' হলো বিশেষণ (বা বিশেষ্য), 'আজ নয় কাল' এখানে 'নয়' যোজক/অব্যয়।
(iii) হে → আবেগ শব্দ
(iv) তুমি → সর্বনাম পদ
(v) আমরি → আবেগ শব্দ
(vi) বিনা → অনুসর্গ পদ
(vii) ও → যোজক পদ
(viii) প্রতিবাদী → বিশেষণ পদ

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন