ভূগোল এবং পরিবেশ • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ফেব্রুয়ারি ২০২৩। ভূপৃষ্ঠের এক আকস্মিক কম্পনে তুরস্ক ও সিরিয়ার একাধিক শহর বিধ্বস্ত হয়। বহু মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপকক্ষতি হয়।দৃশ্যকল্প-২: খ্রীষ্টপূর্ব ১৮৭৯ সাল। ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশ দিয়ে নির্গত উত্তপ্ত পদার্থ দ্বারা আক্রান্ত হয় ইতালির বিভিন্ন গ্রাম, শহর ও কৃষিক্ষেত্র।

  1. ক)

    নদী কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বালুচর কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ঘটনার কারণ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ বর্ণিত ঘটনার মধ্যে কোনটি কিছুটা উপকারী ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পাহাড়-পর্বত, হিমবাহ বা ঝরনা থেকে উৎপন্ন হয়ে যে জলধারা স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগর, হ্রদ বা অন্য নদীতে পতিত হয়, তাকে নদী (River) বলে।

  2. খ)

    নদী তার স্রোতের সাথে বালি, কাঁকর ও পলি বহন করে। নদীর গতিপথের কোনো স্থানে স্রোতের বেগ কমে গেলে এই বহন ক্ষমতা কমে যায়। তখন বহন করা বালি ও কাঁকর নদীর তলদেশ বা বাঁকের ভেতরের পাশে জমা হতে থাকে। দীর্ঘদিন জমা হতে হতে নদীর মাঝখানে বা পাশে বালির স্তূপ জেগে ওঠে, একে বালুচর বলে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ঘটনাটি ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. প্লেটের সঞ্চালন: পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো প্লেট বা ফলক দিয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলোর সঞ্চালন বা পরস্পরের সাথে ঘর্ষণ প্রধানত ভূমিকম্প ঘটায়।
    ২. শিলাচ্যুতি বা ভাঁজ: ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে বড় ধরনের শিলাচ্যুতি বা শিলাস্তরে ভাঁজ সৃষ্টি হলে ভূমিকম্প হয়।
    ৩. তাপ বিকিরণ: ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ফাটল ও ভাঁজ সৃষ্টি হয়ে কম্পন হয়।
    ৪. ভূগর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি: ভূগর্ভে হঠাৎ চাপ কমলে বা বাড়লে ভূমিকম্প হয়।
    ৫. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও হিমবাহের পতন থেকেও কখনো কম্পন সৃষ্টি হতে পারে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ঘটনাটি ভূমিকম্প এবং দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত ঘটনাটি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। আমার মতে, এই দুটির মধ্যে দৃশ্যকল্প-২ এর ঘটনা (অগ্ন্যুৎপাত) কিছুটা উপকারী ভূমিকা পালন করে।

    ১. নতুন শিলা ও ভূমিরূপ সৃষ্টি: অগ্ন্যুৎপাতে নির্গত লাভা জমাট বেঁধে ব্যাসল্টের মতো আগ্নেয় শিলা তৈরি হয় এবং মালভূমি, পর্বত ও নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
    ২. উর্বর মাটি: আগ্নেয় পদার্থ ক্ষয়ে গিয়ে উর্বর মাটি তৈরি হয়, যা কৃষিকাজের জন্য ভালো।
    ৩. খনিজ সম্পদ ও ভূ-তাপ: আগ্নেয় অঞ্চলে মূল্যবান খনিজ পাওয়া যায় এবং উষ্ণ প্রস্রবণ ও ভূ-তাপ শক্তির উৎস সৃষ্টি হয়।
    ৪. পর্যটন: আগ্নেয়গিরি অঞ্চল পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

    অন্যদিকে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি, সম্পদ ও জীবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়, সরাসরি কোনো উপকার তেমন নেই। সুতরাং, ক্ষতিকর দিক থাকলেও অগ্ন্যুৎপাতই কিছুটা উপকারী ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন