জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পঙ্গপাল নামধারী পতঙ্গটির দর্শন ইন্দ্রীয় হলো পুঞ্জাক্ষি। উজ্জ্বল আলোতে প্রাণীটি শুধুমাত্র উল্লম্ব আলোক রশ্মির মাধ্যমে দর্শন সম্পন্ন করে। মৃদু আলোতে প্রাণীটি দর্শন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উল্লম্ব ও তীর্যক দুই ধরনের আলোক রশ্মিই ব্যবহার করে।
- ক)(1)
হাইপোগন্যাথাস মস্তক কী?
- খ)(2)
“যকৃতকে জৈব রসায়নাগার” বলা হয় কেন ?
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুসারে শুধুমাত্র উল্লম্ব আলোক দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব সচিত্র-ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ বাক্যটির ঘটনাবলি চিত্রসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ধরনের মস্তক দেহের অনুদৈর্ঘ্য অক্ষের সাথে সমকোণে অবস্থান করে এবং এর মুখোপাঙ্গগুলো নিচের দিকে মুখ করে থাকে, তাকে হাইপোগন্যাথাস (Hypognathous) মস্তক বলে (যেমন- ঘাসফড়িংয়ের মস্তক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহের যকৃতে দেহের যাবতীয় বিপাকীয় কার্যাবলি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সংঘটিত হয়। খাদ্য পরিপাকের পর শোষিত পুষ্টি উপাদান যকৃতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রূপান্তরিত ও সংশ্লেষিত হয়। যকৃতে শর্করা, প্রোটিন ও লিপিড বিপাক, প্লাজমা প্রোটিন তৈরি, পিত্তরস উৎপাদন, লোহিত রক্তকণিকা ভাঙন, রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান সংশ্লেষণ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয়করণের (detoxification) মতো জটিল শত শত রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈব সংশ্লেষণ অনবরত ঘটে থাকে। এ কারণে যকৃতকে মানবদেহের 'জৈব রসায়নাগার' (Organic Laboratory) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শুধুমাত্র উল্লম্ব আলোক রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্বটি হলো 'অ্যাপোজিশন' বা 'মোজাইক' প্রতিবিম্ব, যা উজ্জ্বল আলোতে ঘাসফড়িংয়ের পুঞ্জাক্ষিতে গঠিত হয়।
১. গঠন প্রক্রিয়া: উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ রঞ্জক আবরণী এবং রেটিনাল রঞ্জক আবরণী সম্পূর্ণরূপে প্রসারিত হয়ে ক্রিস্টালাইন কোণ ও র্যাবডমকে পৃথক ওমাটিডিয়াম হিসেবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে আবৃত করে ফেলে।
২. আলোর গতিপথ: বস্তুর বিভিন্ন বিন্দু থেকে আগত তীর্যক আলোক রশ্মিগুলো রঞ্জক আবরণী দ্বারা শোষিত হয় এবং ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কেবল বস্তুর প্রতিটি বিন্দু থেকে আগত সোজা বা উল্লম্ব আলোক রশ্মিই ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোণ ভেদ করে র্যাবডমে পৌঁছায়।
৩. প্রতিবিম্বের প্রকৃতি: প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে বস্তুর নির্দিষ্ট অংশের এক-একটি পৃথক প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। সবগুলো ওমাটিডিয়ামের পৃথক প্রতিবিম্ব পাশাপাশি যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ বস্তুর একটি সুস্পষ্ট মোজাইক প্রতিবিম্ব গঠন করে।(পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র: উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের রঞ্জক আবরণীর পূর্ণ প্রসারণ ও উল্লম্ব রশ্মির র্যাবডমে প্রবেশের চিহ্নিত চিত্র আঁকতে হবে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ বাক্যটিতে মৃদু আলোতে উল্লম্ব ও তীর্যক দুই ধরনের আলোক রশ্মি ব্যবহার করে যে দর্শন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তা হলো 'সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব' গঠনের প্রক্রিয়া। নিচে এর ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রঞ্জক আবরণীর সংকোচন: মৃদু বা স্তিমিত আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ রঞ্জক আবরণী এবং রেটিনাল রঞ্জক আবরণীর কণিকাসমূহ সংকুচিত হয়ে যথাক্রমে ওমাটিডিয়ামের দূরবর্তী প্রান্ত (কর্নিয়ার কাছে) এবং ভিত্তিপর্দার দিকে সরে যায়। ফলে ক্রিস্টালাইন কোণ এবং র্যাবডমের মধ্যবর্তী অংশ রঞ্জক আবরণীমুক্ত ও অনাবৃত হয়ে পড়ে।
২. আলোকরশ্মির প্রতিসরণ: এর ফলে কোনো একটি ওমাটিডিয়ামে কেবল নিজস্ব উল্লম্ব রশ্মিই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ওমাটিডিয়ামের কর্নিয়া দিয়ে প্রবেশকারী তীর্যক আলোক রশ্মিগুলোও বাধাহীনভাবে ক্রিস্টালাইন কোণ ও স্বচ্ছ অংশের মধ্য দিয়ে অন্য ওমাটিডিয়ামের র্যাবডমে এসে কেন্দ্রীভূত হতে পারে।
৩. প্রতিবিম্বের প্রকৃতি: এভাবে বস্তুর বিভিন্ন বিন্দু থেকে আগত উল্লম্ব ও তীর্যক উভয় প্রকার আলোক রশ্মি একই র্যাবডমে বা পার্শ্ববর্তী র্যাবডমগুলোতে একে অপরের ওপর উপরিপাতিত (superimpose) হয়। ফলে তৈরি হওয়া একাধিক প্রতিবিম্ব একে অপরের উপর উপরিপাতিত হয়ে সম্পূর্ণ বস্তুর একটি সামগ্রিক তবে ঝাপসা বা অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করে।এভাবেই মৃদু আলোতে ঘাসফড়িং সুপারপজিশন কৌশলের মাধ্যমে দৃষ্টিগ্রাহ্যতা বজায় রাখে।
(পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র: স্তিমিত আলোতে সংকুচিত রঞ্জক আবরণী এবং একাধিক ওমাটিডিয়ামের তীর্যক ও উল্লম্ব রশ্মির উপরিপাতন প্রদর্শনকারী চিত্র আঁকতে হবে)।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও