যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: আক্কাস আলী গ্রামের সবাইকে শিক্ষিত করবে বলে অনেক ভেবেছে। এরপর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় স্কুল প্রতিষ্ঠা, সকলকে স্কুলে ভর্তি করানো, পাঠদান ইত্যাদি কার্যক্রম ২০ বছর ধরে সফলভাবে চালিয়ে আজ সে আনন্দিত। সকলের অনুরোধে নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করল, “আজ এই গ্রামের সকল মানুষ হয় শিক্ষিত।”দৃশ্যকল্প-২: মা তার সন্তানের সফলতায় যেমন বাহ্! বলে উৎসাহ দেয় তেমনি অপ্রীতিকর কাজের জন্য আহ! ছি ছি! বলে তিরস্কার করে।
- ক)(1)
সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য কী?
- খ)(2)
যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত বিস্ময়সূচক শব্দগুলো পদ হতে পারে না। কেন? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এ আক্কাস আলীর ভাবনা ও মঞ্চের ঘোষণার পার্থক্য যুক্তিবিদ্যার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার করে, তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য (বা 'A' বাক্য) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো যুক্তিবাক্যে কোনো পদ তখনই ব্যাপ্য হয় যখন পদটি তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ বা পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। বিশেষ সদর্থক বা 'I' যুক্তিবাক্যে (যেমন: "কিছু মানুষ হয় সৎ") উদ্দেশ্য পদটি দ্বারা সমগ্র মানুষকে বোঝানো হয় না, বরং বিশেষ কিছু অংশকে বোঝানো হয়, ফলে উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য। আবার বিধেয় পদটিও আংশিকভাবে উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রযুক্ত হওয়ায় বিধেয় পদও অব্যাপ্য থাকে। সুতরাং, বিশেষ সদর্থক ('I') যুক্তিবাক্যের কোনো পদই ব্যাপ্য নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত 'বাহ্!', 'আহ্!', 'ছি ছি!' ইত্যাদি বিস্ময়সূচক শব্দগুলো হলো পদ-অযোগ্য (Ineligible to be terms) শব্দ। যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুসারে এগুলো কখনো পদ হতে পারে না।
যুক্তিবিদ্যায় 'পদ' (Term) হতে হলে কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টিকে একটি যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য (Subject) বা বিধেয় (Predicate) হিসেবে ব্যবহৃত হতে হয় অথবা ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। কিন্তু আবেগ বা বিস্ময়সূচক অব্যয় শব্দগুলো মানুষের আকস্মিক মনের ভাব বা অনুভূতি (আনন্দ, দুঃখ, ঘৃণা, বিস্ময়) প্রকাশ করে মাত্র। এগুলো এককভাবে বা স্বাধীনভাবে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে অর্থপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করতে পারে না।
দৃশ্যকল্পে মা সন্তানের সফলতায় বা অসন্তুষ্টিতে যেসব আবেগসূচক শব্দ উচ্চারণ করেছেন, সেগুলোর কোনো ব্যক্ত্যর্থ বা জাত্যর্থ নেই এবং কোনো যৌক্তিক অবয়বে এদের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে বসানো যায় না। তাই এগুলো পদ হতে পারে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ আক্কাস আলীর প্রাথমিক চিন্তা বা ভাবনা এবং নির্বাচনী মঞ্চে দেওয়া ঘোষণার মধ্যে চিন্তা ও ভাষার পার্থক্যের মতো মানসিক প্রক্রিয়া বনাম যুক্তিবাক্যের পার্থক্য বিদ্যমান, যা যুক্তিবিদ্যার মৌলিক আলোচনার বিষয়।
আক্কাস আলীর ভাবনাটি হলো একটি নিছক মানসিক ধারণা বা চিন্তা (Idea/Thought)। যুক্তিবিদ্যায় চিন্তা বা ধারণা যতক্ষণ মনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ তা কোনো যৌক্তিক রূপ পরিগ্রহ করে না। মানুষের মনোজগতে সংকল্প, ইচ্ছা বা ভাবনার সৃষ্টি হয়, যা যুক্তিবিদ্যার প্রত্যক্ষ আলোচ্য বিষয় নয়।
পক্ষান্তরে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন তিনি বললেন, "আজ এই গ্রামের সকল মানুষ হয় শিক্ষিত", তখন তা ভাষায় প্রকাশিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ 'যুক্তিবাক্য'-এ (Proposition) রূপান্তরিত হলো। এটি একটি সার্বিক সদর্থক ('A') যুক্তিবাক্য, যার একটি উদ্দেশ্য পদ ("এই গ্রামের সকল মানুষ"), একটি বিধেয় পদ ("শিক্ষিত") এবং একটি সংযোজক ("হয়") রয়েছে। যুক্তিবিদ্যা মূলত ভাষায় প্রকাশিত এই ধরনের চিন্তা বা অবধারণ (Judgment) নিয়ে কাজ করে, যা সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।
সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এ আক্কাস আলীর ভাবনা ছিল অন্তর্জগতের একটি মানসিক অবধারণ বা চিন্তা, আর মঞ্চের ঘোষণাটি হলো ভাষায় প্রকাশিত সেই চিন্তার রূপ অর্থাৎ একটি যথার্থ যুক্তিবাক্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও