বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
চিত্রশিল্পী কাজী ইকবাল স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। হঠাৎ আসা সুনামির আঘাতে ভেসে গেল তার পরিবারের সবাই। নিজে বেঁচেগেলেও বিয়োগান্তক এই ঘটনার শোকে ভীষণ ভেঙে পড়লেন। ছবি আঁকা নেশা ওপেশা হলেও তিনি আর কখনই হাতে তুলে নেননি আঁকার তুলি কিংবা রং।
- ক)(1)
“দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?”- প্রশ্নটি কার?
- খ)(2)
“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী”-পঙ্ক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার ভাববস্তুর সাদৃশ্য আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে মনোবেদনা বর্ণিতহয়েছে উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত।”- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?”—প্রশ্নটি কবি সুফিয়া কামালের।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা শীত ঋতুর নিঃসঙ্গ ও রিক্ত বিদায়ের স্বরূপ এবং কবির হৃদয়ের গভীর শূন্যতাকে রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় শীত ঋতুকে কুয়াশার চাদর পরিহিত এক রিক্ত সন্ন্যাসীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। সন্ন্যাসী যেমন পার্থিব মায়া ত্যাগ করে নিঃসঙ্গভাবে চলে যায়, তেমনি শীতও কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধ ত্যাগ করে অনন্তের পথে বিদায় নিয়েছে। কবির প্রিয়জন হারানোর হাহাকার ও রিক্ততা মূলত শীতের এই উদাসীন ও কুয়াশাচ্ছন্ন প্রস্থানভাবের মধ্য দিয়েই মূর্ত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ভাববস্তুর সাথে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার ভাববস্তুর স্বজন হারানোর গভীর শোক ও কর্মবিমুখতার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় দেখা যায়, কবি তাঁর স্বামী ও সাহিত্য-সাধনার মূল প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে প্রচণ্ড শোকাহত। বসন্তের আগমনে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সাজলেও প্রিয়জন হারানোর গভীর বিষাদ কবিকে আচ্ছন্ন করে রাখে; তিনি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও কাব্যচর্চায় সম্পূর্ণ উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
উদ্দীপকের চিত্রশিল্পী কাজী ইকবালও তেমনি সুনামির ভয়াল আঘাতে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে হারিয়ে শোকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। এই মর্মান্তিক বিয়োগান্তক বেদনায় তিনি তাঁর পরম প্রিয় নেশা ও পেশা ছবি আঁকার তুলি ও রং চিরতরে ত্যাগ করেন।
অতএব, উদ্দীপক ও কবিতা উভয় স্থানেই স্বজন হারানোর প্রচণ্ড শোকে সৃষ্ট মানসিক রিক্ততা এবং নিজের প্রধান সৃষ্টিশীল কর্মের প্রতি তীব্র অনীহা ও নীরবতার যে ভাব ফুটে উঠেছে, তা সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে মনোবেদনা বর্ণিত হয়েছে উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত বিষাদ ও মনোবেদনা প্রকৃতির ঋতুচক্র ও রূপবৈচিত্র্যের সাথে এক নিবিড় দ্বান্দ্বিক সম্পর্কে আবর্তিত হয়েছে। চারদিকে বসন্তের আগমন, ফাগুনের সমীরণ, পুষ্পবিকাশ ও প্রকৃতির উল্লাস সত্ত্বেও কবিমন তাতে সাড়া দিতে পারে না। কবি-ভক্তের সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে ফুটে ওঠে যে, প্রকৃতির উজ্জ্বল উৎসবমুখরতা কবির প্রিয়হারা অন্তরের শূন্যতাকে উপশম না করে বরং আরও তীব্রভাবে জাগিয়ে তুলেছে। অর্থাৎ কবির শোকগাথা পুরোমাত্রায় প্রকৃতি-সম্পর্কিত এবং প্রকৃতির পটভূমিতেই প্রতিফলিত।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের চিত্রশিল্পী কাজী ইকবালের মনোবেদনায় সুনামি ছিল কেবল তাঁর পরিবার হারানোর একটি প্রাকৃতিক কারণ বা দুর্যোগ। কিন্তু পরিবারের সবার মৃত্যুর পর তাঁর যে শোক ও ছবি আঁকা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, তার সাথে চারপাশের ঋতু-প্রকৃতির কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ বা দ্বন্দ্বের বিবরণ উদ্দীপকে নেই। তাঁর শোক নিতান্তই একটি সাধারণ মানসিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির কোনো নান্দনিক অনুষঙ্গ অনুপস্থিত।
অতএব, কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের গভীর মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে যে বিরহচেতনা ও মনোবেদনা প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকের চিত্রশিল্পীর আচরণে কেবল শোকগ্রস্ততা থাকলেও প্রকৃতির সাথে মনস্তাত্ত্বিক সেই ঘনিষ্ঠ সংযোগ নেই। সুতরাং মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও