যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    যৌক্তিক বিভাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    যৌক্তিক বিভাগের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

    (2)
  3. গ)

    ১ম দৃশ্যকল্পে কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ২য় দৃশ্যকল্পে যে বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে সে বিষয়ের সুবিধা অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি মূল সূত্রের ভিত্তিতে একটি উচ্চতর জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মধ্যে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌক্তিক বিভাগের দুটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. যৌক্তিক বিভাগ সর্বদা কোনো জাতি বা শ্রেণিকে উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করে; কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুর বিভাগ সম্ভব নয়।
    ২. যৌক্তিক বিভাগে সর্বদা একটি সুনির্দিষ্ট মূল সূত্র (Fundamentum Divisionis) অনুসরণ করতে হয় এবং একই সময়ে কেবল একটি মূল নীতিই গৃহীত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১ম দৃশ্যকল্পে 'পরস্পরাঙ্গী বিভাগ' বা 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' (Fallacy of Cross-division) ঘটেছে।

    যৌক্তিক বিভাগের একটি মৌলিক নিয়ম হলো—প্রতিটি বিভাগের ক্ষেত্রে একই সময়ে কেবল একটিমাত্র মূল সূত্র বা নীতি গ্রহণ করতে হবে। যদি একই বিভাগে একই সময়ে একাধিক মূল সূত্র গ্রহণ করা হয়, তবে তাকে সংকর বিভাগ বা পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি বলে।

    উদ্দীপকের ১ম দৃশ্যকল্পে 'মানুষ' শ্রেণিকে একসাথে 'সভ্য', 'সৎ' ও 'শিক্ষিত'—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এখানে সভ্যতা, সততা এবং শিক্ষা—এই তিনটি ভিন্ন মূল নীতি একই সাথে প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে উপশ্রেণিগুলো পরস্পরকে বর্জন করতে পারছে না; কারণ একজন মানুষ একই সাথে সভ্য, সৎ এবং শিক্ষিত হতে পারে। এতে যৌক্তিক বিভাগের মূল নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ায় এখানে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ২য় দৃশ্যকল্পে যৌক্তিক বিভাগের 'দ্বিকোটিক বিভাগ' (Dichotomy)-এর ইঙ্গিত রয়েছে। কোনো জাতিকে একটি নির্দিষ্ট গুণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দুটি পরস্পরবিরোধী বা বিরুদ্ধ উপজাতিতে (যেমন: 'বাঙালি' ও 'অবাঙালি' এবং পরবর্তীতে 'শিক্ষিত' ও 'অশিক্ষিত') ভাগ করাই হলো দ্বিকোটিক বিভাগ। নিচে এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    দ্বিকোটিক বিভাগের সুবিধাসমূহ:
    ১. সহজ ও নিয়মনিষ্ঠ: এটি বিরোধ বা নিষেধের নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি নির্দিষ্ট গুণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ভিত্তিতে ভাগ করা হয় বলে এতে কোনো উপশ্রেণি বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে না।
    ২. অনুপপত্তিমুক্ত: একই সাথে একটি মাত্র মূল সূত্র ব্যবহৃত হওয়ায় সংকর বিভাগ, অতিব্যাপক বা অব্যাপক বিভাগের মতো অনুপপত্তি ঘটার সুযোগ থাকে না।
    ৩. নিখুঁত ও সম্পূর্ণ: দ্বিকোটিক বিভাগে মূল শ্রেণির ব্যক্ত্যর্থের সম্পূর্ণ অংশই উপশ্রেণি দুটির মধ্যে নিঃশেষে বিভক্ত হয়ে যায়।

    দ্বিকোটিক বিভাগের অসুবিধাসমূহ:
    ১. নেতিবাচক শ্রেণির অনির্দিষ্টতা: দ্বিকোটিক বিভাগের একটি অংশ থাকে ইতিবাচক এবং অন্যটি নেতিবাচক বা বিরুদ্ধ পদ (যেমন: অবাঙালি, অশিক্ষিত)। এই নেতিবাচক পদটির ব্যক্ত্যর্থ অত্যন্ত ব্যাপক ও অনির্দিষ্ট থাকে, যা বাস্তব জ্ঞানার্জনে খুব একটা সহায়ক হয় না।
    ২. বাস্তবধর্মী জ্ঞানের অভাব: এটি একটি তাত্ত্বিক বা রূপগত প্রক্রিয়া। বাস্তব জীবনের বস্তু বা জাতির ক্ষেত্রে সবসময় একটি নির্দিষ্ট গুণের থাকা বা না থাকার ভিত্তিতে কার্যকর শ্রেণিবিভাগ করা যায় না।
    ৩. জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া: একটি বিস্তৃত শ্রেণিকে এভাবে ধাপে ধাপে দ্বিকোটিক বিভাগে ভাঙতে থাকলে বিভাগটি অত্যন্ত দীর্ঘ, জটিল এবং ক্লান্তিকর হয়ে পড়ে।

    সুতরাং বলা যায়, দ্বিকোটিক বিভাগ যৌক্তিক দিক থেকে সুশৃঙ্খল ও ত্রুটিমুক্ত হলেও এর ব্যবহারিক ও বাস্তব মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন