জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রহিমের প্রস্রাবের পরিমাণ কয়েকদিন যাবত কমে যাওয়া ডাক্তার থাকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার পরামর্শ দিলেন।

  1. ক)

    pH কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হিমোডায়ালাইসিস বলতে কি বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    রহিমের সমস্যার-সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি কিভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিমের সমস্যার সমাধান একটি হরমোন ও ভূমিকা রাখবে-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে। অর্থাৎ, pH = -log[H+]।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হিমোডায়ালাইসিস হলো এমন একটি কৃত্রিম পদ্ধতি যার মাধ্যমে ডায়ালাইজার মেশিনের সাহায্যে অকেজো বৃক্কবিশিষ্ট রোগীর রক্ত থেকে ক্ষতিকর নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এতে রোগীর দেহের একটি ধমনি থেকে রক্ত এনে হেপারিনযুক্ত করে বৈষম্যভেদ্য ডায়ালাইসিস নালিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় এবং পরিশোধিত রক্ত শিরার মাধ্যমে পুনরায় দেহে প্রবেশ করানো হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রহিমের প্রস্রাব কমে যাওয়ার সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রধান অঙ্গটি হলো বৃক্ক (Kidney)। বৃক্কের কার্যকরী একক নেফ্রন মূত্র উৎপাদনের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে। এটি প্রধানত তিনটি ধাপে কাজ করে:
    ১. আল্ট্রাফিল্ট্রেশন (অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবণ): রেনাল করপাসলের গ্লোমেরুলাসে রক্ত উচ্চ চাপে প্রবেশ করলে রক্তের জলীয় অংশ, গ্লুকোজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য বোম্যান্স ক্যাপসুলের গহ্বরে পরিশ্রুত তরল হিসেবে প্রবেশ করে, যাকে গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেট বলে।
    ২. সক্রিয় পুনঃশোষণ: ফিল্ট্রেটটি রেনাল টিউবিউলসের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রক্সিমাল টিউবিউল, হেনলির লুপ এবং ডিস্টাল টিউবিউলে প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ (যেমন- পানি, গ্লুকোজ, খনিজ লবণ ইত্যাদি) পুনরায় রক্তে শোষিত হয়।
    ৩. সক্রিয় ক্ষরণ: টিউবিউলের চারপাশের রক্তজালিকা থেকে অপ্রয়োজনীয় কিছু উপাদান (যেমন- ক্রিয়েটিনিন, কিছু ড্রাগস, অতিরিক্ত আয়ন) সরাসরি নালিকার ভেতরের তরলে ক্ষরিত হয়।
    এই তিনটি ধাপের সমন্বয়ে মূত্র তৈরি হয় এবং তা সংগ্রাহী নালিকা হয়ে মূত্রনালির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রহিমের প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার সমস্যাটির পেছনে পানিশূন্যতা বা দেহের পানি ভারসাম্যের ভারসাম্যহীনতা কাজ করছে, যেখানে অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন (ADH বা ভ্যাসোপ্রেসিন) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    ১. উদ্দীপনা ও ক্ষরণ: শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে রক্তের অসমোটিক চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের অসমোরিসেপ্টর উদ্দীপিত হয় এবং পশ্চাৎ পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে রক্তে অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন (ADH) ক্ষরিত হয়।
    ২. ক্রিয়া কৌশল: ADH রক্ত সংবহনের মাধ্যমে বৃক্কে পৌঁছায় এবং নেফ্রনের দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (ডিস্টাল টিউবিউল) ও সংগ্রাহী নালিকার প্রাচীরের কোষগুলোর পানির ভেদ্যতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ফিল্ট্রেট থেকে অধিক পরিমাণে পানি পুনঃশোষিত হয়ে রক্তে ফিরে আসে।
    ৩. পানির ভারসাম্য রক্ষা: রহিমের শরীরে যখন পানির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন ADH কাজ করে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি অপচয় রোধ করে অভ্যন্তরীণ অভিস্রবণিক ভারসাম্য রক্ষা করে। পরবর্তীতে ডাক্তার তাকে প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দেওয়ায় শরীরে তরলের মাত্রা স্বাভাবিক হবে। তখন হাইপোথ্যালামাস ADH-এর ক্ষরণ কমিয়ে দেবে, যার ফলে নালিকাগুলো দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্রাবণ ও মূত্র উৎপাদন পুনরুদ্ধার হবে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

    সুতরাং, রহিমের দেহে পানির সঠিক ভারসাম্য ও মূত্র উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে ADH হরমোনটি সরাসরি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন