যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বিধেয়ক কী?

    (1)
  2. খ)

    সমজাতীয় উপজাতির ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে দানাযুক্ত ও দানামুক্ত কলার মাধ্যমে বিধেয়কের কোন ধারণাটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় দুটির আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সদর্থক যুক্তিযুক্ত বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যে যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক থাকে, তাকে বিধেয়ক (Predicable) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই জাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজাতিকে পরস্পরের সাপেক্ষে সমজাতীয় উপজাতি (Co-ordinate species) বলে। যুক্তিবিদ্যায় যখন একটি বৃহত্তর জাতিকে একাধিক ক্ষুদ্রতর উপজাতিতে বিভক্ত করা হয়, তখন সেই উপজাতিগুলো সমমর্যাদাসম্পন্ন বা সমপর্যায়ের হয়। যেমন—'মানুষ' জাতিকে পুরুষ ও নারী হিসেবে ভাগ করলে পুরুষ ও নারী হলো পরস্পরের সমজাতীয় উপজাতি। এরা প্রত্যেকেই তাদের সাধারণ জাতি 'মানুষ'-এর অধীন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দানাযুক্ত ও দানামুক্ত কলার মাধ্যমে বিধেয়কের 'উপজাতি' (Species) এবং 'লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ' (Differentia)-এর সমন্বয়ে গঠিত উপজাতির ধারণাটি প্রকাশ পেয়েছে, যার ভিত্তি হলো 'উপজাতি'।

    দুটি শ্রেণিবাচক পদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম ব্যক্ত্যর্থসম্পন্ন বা সংকীর্ণ পদটিকে ব্যাপকতর পদটির উপজাতি বলা হয়। উদ্দীপকে 'কলা' হলো একটি বৃহত্তর শ্রেণি বা জাতি (Genus)। এই জাতিকে দানার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দুটি উপজাতিতে ভাগ করা হয়েছে—'দানাযুক্ত কলা' ও 'দানামুক্ত কলা'। এখানে 'কলা' জাতির সাপেক্ষে দানাযুক্ত ও দানামুক্ত কলা দুটি পৃথক উপজাতি।

    আবার, এদের মধ্যকার পার্থক্যের মূল কারণ হলো 'দানা থাকা বা না থাকা', যা বিভেদক লক্ষণের কাজ করেছে। ফলে এই বিভেদক লক্ষণের মাধ্যমে 'কলা' নামক মূল জাতি থেকে 'দানাযুক্ত কলা' ও 'দানামুক্ত কলা' নামক দুটি সমজাতীয় উপজাতি সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকে মূলত বিধেয়কের 'উপজাতি' ধারণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয় দুটি হলো বিধেয়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রত্যয়—'জাতি' (Genus) এবং 'উপজাতি' (Species)। উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, 'কলা' থেকে ক্রমান্বয়ে 'দানাযুক্ত কলা' ও 'দানামুক্ত কলা', তা থেকে 'মিষ্টি কলা' ও 'টক মিষ্টি কলা' এবং পরিশেষে 'সাগর কলা' ও 'বাংলা কলা'-এর শ্রেণিবিভাগ দেখানো হয়েছে।

    জাতি ও উপজাতির আন্তঃসম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং আপেক্ষিক:
    ১. আপেক্ষিক সম্পর্ক: জাতি ও উপজাতি কোনো স্থায়ী বা পরম পদ নয়; এরা পরস্পরের সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকে 'কলা' হলো 'দানামুক্ত কলা'-র তুলনায় জাতি। কিন্তু 'দানামুক্ত কলা' আবার 'মিষ্টি কলা'-র তুলনায় একটি জাতি। একইভাবে 'মিষ্টি কলা' হলো 'সাগর কলা'-র তুলনায় জাতি। অর্থাৎ একটি পদ এক সাপেক্ষে উপজাতি হলেও অন্য সাপেক্ষে জাতি হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    ২. ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী সম্পর্ক: জাতির ব্যক্ত্যর্থ বা পরিধি উপজাতির চেয়ে বেশি, কিন্তু জাত্যর্থ বা গুণ কম। অপরপক্ষে, উপজাতির ব্যক্ত্যর্থ কম কিন্তু জাত্যর্থ বেশি। যেমন, 'কলা' জাতির আওতা 'দানামুক্ত কলা' উপজাতির চেয়ে বৃহত্তর, কিন্তু দানামুক্ত কলার বৈশিষ্ট্য কলার চেয়ে বেশি নির্দিষ্ট।

    ৩. অবিচ্ছেদ্য নির্ভরতা: উপজাতি ছাড়া জাতির বা জাতি ছাড়া উপজাতির অস্তিত্ব যুক্তিবিদ্যায় অর্থহীন। জাতি হলো উপজাতিসমূহের সাধারণ রূপ এবং উপজাতিগুলো জাতির বাস্তব রূপায়ণ।

    অতএব, উদ্দীপকের ছকটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে জাতি ও উপজাতি পরস্পর নির্ভরশীল এবং ক্রমান্বয়ে বিভাজনের মাধ্যমে এদের আপেক্ষিক আন্তঃসম্পর্ক স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন