সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প ১ : সুরেন্দ্র বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। তার নৃগোষ্ঠীতে মৃত্যুকে খুব পবিত্র বিষয় বলে গণ্য করা হয়। তাদের পোশাক ও নৃত্য বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দৃশ্যকল্প ২ : শিবু বাংলাদেশের দিনাজপুর অঞ্চলের এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। তাদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু বর্ণমালা নেই। তাদের আবার স্বতন্ত্র ধর্ম আছে কিন্তু অন্য ধর্মের অনেক আচারও লক্ষ্যণীয়।
- ক)(1)
মান্দি কী?
- খ)(2)
চাকমাদের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সুরেন্দ্র বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য শুধু সাংস্কৃতিক নয় ; রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তুমি কি একমত? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হলো 'মানুষ'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নৃগোষ্ঠীগত বৈশিষ্ট্যের বিচারে চাকমারা 'মঙ্গোলীয়' (Mongoloid) নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের শারীরিক গঠনের মধ্যে মঙ্গোলীয়দের স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান; যেমন—গায়ের রং ফর্সা বা হলুদাভ, মুখমণ্ডল গোলগাল, নাক কিছুটা চ্যাপ্টা, চোখ ছোট ও চোখের পাতা কোঁকড়ানো এবং চুল সাধারণত কালো ও সোজা। ভাষাগতভাবে চাকমারা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত হলেও নরগোষ্ঠীগতভাবে তারা খাঁটি মঙ্গোলয়েড ধারার অংশ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুরেন্দ্র বাংলাদেশের 'মণিপুরি' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
মণিপুরিরা মূলত বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে। মণিপুরি সংস্কৃতিতে নৃত্য ও সঙ্গীত অত্যন্ত উচ্চমানের ও বিশ্ববিখ্যাত। তাদের ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি নৃত্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত। এছাড়া তারা তাঁতশিল্পে দক্ষ এবং তাদের তৈরি পোশাক (যেমন—ইনাফি, ফানেক) দেশে ও বিদেশে সমাদৃত। মণিপুরি সমাজে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অত্যন্ত গভীর এবং তারা মৃত্যুকে আত্মা ও ঈশ্বরের মিলন হিসেবে অতি পবিত্র বিষয় মনে করে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ সুরেন্দ্রের সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়া, তাদের পোশাক ও নৃত্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং মৃত্যুকে অত্যন্ত পবিত্র বিষয় বলে গণ্য করার বৈশিষ্ট্যাবলি মণিপুরি সমাজের সাথেই সম্পূর্ণ মিলে যায়। সুতরাং, সুরেন্দ্র মণিপুরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত সাঁওতাল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য শুধু সাংস্কৃতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
উদ্দীপকে দিনাজপুরে বসবাসকারী শিবুর গোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে, যাদের নিজস্ব অলিখিত ভাষা রয়েছে, অন্য ধর্মের আচার লক্ষ্য করা যায় এবং যারা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল। এটি নিশ্চিতভাবেই সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী।
সাঁওতালদের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক অবদান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১. ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫): ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক, তাদের মদদপুষ্ট জমিদার ও মহাজনদের সীমাহীন শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরবের নেতৃত্বে সাঁওতালরা ১৮৫৫ সালে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ গড়ে তোলে। এটি ছিল উপমহাদেশের অন্যতম প্রথম সংগঠিত কৃষক ও গণসংগ্রাম, যা উপমহাদেশের পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনগুলোতে গভীর রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
২. তেভাগা আন্দোলন ও নাচোল বিদ্রোহ (১৯৪৯-৫০): ব্রিটিশোত্তর আমলেও অন্যায্য বর্গা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইলা মিত্রের নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক নাচোলের কৃষক বিদ্রোহে সাঁওতালরা সম্মুখ সারির রাজনৈতিক যোদ্ধা হিসেবে আত্মাহুতি দেয়।
৩. মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বহু মানুষ প্রত্যক্ষভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
৪. সাংবিধানিক ও অধিকার সচেতনতা: সাঁওতালরা নিজেদের অধিকার, ভূমি স্বত্ব ও জাতিগত মর্যাদার প্রশ্নে সবসময় রাজনৈতিকভাবে সোচ্চার ও সংগঠিত আন্দোলন চালিয়ে আসছে।সুতরাং বলা যায়, তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে কৃষক আন্দোলন ও মুক্তির সংগ্রামে তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা সাঁওতালদের এক অনন্য রাজনৈতিক তাৎপর্য এনে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও