ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর মাত্র ১২,০০০ সৈন্য নিয়ে সুলতান ইব্রাহিম লোদীর লক্ষাধিক সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করেন। এর ফলে ভারতে দীর্ঘদিনের সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মুঘল বংশের শাসনের সূচনা হয় যা প্রায় তিন শতাব্দীকাল ব্যাপী স্থায়ী ছিল।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলা কবে সিংহাসন লাভ করেন?
- খ)(2)
ইউরোপীয়দের ভারতবর্ষে আগমনের কারণ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন যুদ্ধের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত শাসকের পরাজয়ের কারণসমূহ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালে (১০ এপ্রিল) বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউরোপীয়দের ভারতবর্ষে আগমনের প্রধান কারণ ছিল মসলাসহ মূল্যবান ভারতীয় পণ্যের লাভজনক বাণিজ্য করা। মধ্যযুগে প্রাচ্যের মসলা, রেশম ও সুতিবস্ত্র ইউরোপে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন ছিল। ১৪৫৩ সালে অটোমান তুর্কিরা কনস্টান্টিনোপল দখল করলে ইউরোপের প্রাচ্যমুখী স্থলপথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিকল্প জলপথ আবিষ্কার করে ইউরোপীয় বণিকরা সরাসরি ভারতের সাথে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পানিপথের প্রথম যুদ্ধের সাথে পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে বাবর সুলতান ইব্রাহিম লোদীর বিশাল বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতে নতুন শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। একইভাবে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে লর্ড ক্লাইভের মাত্র ৩,০০০ সৈন্যের কাছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রায় ৫০,০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনী পরাজিত হয়েছিল। নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং কামানের অপর্যাপ্ত ব্যবহারের ফলে নবাবের পরাজয় ঘটে এবং ভারতে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পথ উন্মুক্ত হয়। বিপুল সৈন্যের ওপর কৌশল ও অন্তর্ঘাতের বিজয় ঘটার কারণে যুদ্ধ দুটির মধ্যে গভীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের জন্য রাজনৈতিক, কৌশলগত এবং অন্তর্ঘাতমূলক একাধিক কারণ দায়ী ছিল। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে কারণসমূহ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা: নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার নির্দেশনায় নবাবের বিশাল বাহিনী যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
২. ঘসেটি বেগম ও রাজন্যবর্গের চক্রান্ত: নবাবের খালা ঘসেটি বেগম, প্রভাবশালী শেঠ ও অমাত্যবর্গ (যেমন—জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ) ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে নবাবকে সিংহাসনচ্যুত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন।
৩. কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত: মীর মদন ও মোহনলালের বীরত্বপূর্ণ লড়াই সত্ত্বেও মীর জাফরের পরামর্শে নবাব যুদ্ধ স্থগিত করার ভুল সিদ্ধান্ত নেন, যার সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা অতর্কিত আক্রমণ করে।
৪. বৃষ্টি ও গোলাবারুদের ক্ষতি: যুদ্ধের সময় হঠাৎ বৃষ্টিতে নবাবের গোলাবারুদ ভিজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, যা নবাবের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে।
৫. নবাবের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা ও অতিরিক্ত সরলতা: নবাব বারবার মীর জাফরকে বিশ্বাস করে তাকে সেনাপতি পদে বহাল রেখেছিলেন, যা তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পরিশেষে, অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণেই মূলত বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পতন ঘটেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও