জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
টিস্যু কালচার কী?
- খ)(2)
ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী অণুজীব কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'খ' রেখাচিত্রের সাহায্যে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' চক্রের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের কোনো বিভাজনক্ষম অঙ্গ বা টিস্যু থেকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে নতুন চারা বা অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রযুক্তিকে টিস্যু কালচার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব জীবের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেনযুক্ত) থাকে না, তাদের আদিকোষী বলা হয়। ব্যাকটেরিয়ার কোষে নির্দিষ্ট কোনো নিউক্লিয়ার পর্দা বা নিউক্লিওলাস থাকে না; এর পরিবর্তে নগ্ন ও বৃত্তাকার ডিএনএ সাইটোপ্লাজমে অবস্থান করে, যাকে নিউক্লিঅয়েড বলে। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়ায় ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু (যেমন—মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু, প্লাস্টিড ইত্যাদি) অনুপস্থিত এবং এতে কেবল ৭০S রাইবোসোম থাকে। তাই ব্যাকটেরিয়া একটি আদিকোষী অণুজীব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'খ' চক্রটি হলো হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা C4 চক্র, কারণ এর প্রাথমিক CO2 গ্রাহক হলো ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP) এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA)।
নিচে সংক্ষেপে C4 চক্রের রেখাচিত্র বা পর্যায়ক্রমিক প্রবাহ দেখানো হলো:
১. মেসোফিল কোষে:
বায়ুমণ্ডলীয় CO2 + ফসফোএনল পাইরুভেট (PEP, ৩C) --(PEP কার্বক্সিলেজ)--> অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA, ৪C)২. OAA (৪C) + NADPH + H+ --(ম্যালিক ডিহাইড্রোজিনেজ)--> ম্যালিক অ্যাসিড (৪C) + NADP+
(অথবা ট্র্যান্সঅ্যামিনেশনের মাধ্যমে অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড তৈরি হয়)৩. প্লাজমোডেসমাটা দিয়ে মেসোফিল কোষ থেকে বান্ডল সিথ কোষে ম্যালিক অ্যাসিডের প্রবেশ:
ম্যালিক অ্যাসিড (৪C) --(ম্যালিক এনজাইম)--> পাইরুভিক অ্যাসিড (৩C) + CO2 + NADPH + H+৪. নির্গত CO2 বান্ডল সিথ কোষে ক্যালভিন চক্রে (C3 চক্র) প্রবেশ করে শর্করা তৈরি করে।
৫. উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড (৩C) পুনরায় মেসোফিল কোষে ফিরে আসে:
পাইরুভিক অ্যাসিড (৩C) + ATP --(পাইরুভেট ফসফেট ডাইকাইনেজ)--> ফসফোএনল পাইরুভেট (PEP) + AMP + PPiপুনরায় ফসফোএনল পাইরুভেট CO2 গ্রহণ করে চক্রটি সচল রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'ক' চক্রটি হলো ক্যালভিন চক্র বা C3 চক্র এবং 'খ' চক্রটি হলো হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র বা C4 চক্র। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. প্রথম স্থায়ী পদার্থ: C3 চক্রের প্রথম স্থায়ী যৌগ ৩-কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (3-PGA)। অন্যদিকে C4 চক্রের প্রথম স্থায়ী যৌগ ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA)।
২. প্রথম CO2 গ্রাহক: C3 চক্রে প্রথম CO2 গ্রাহক ৫-কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)। C4 চক্রে প্রথম CO2 গ্রাহক ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP)।
৩. প্রধান এনজাইম: C3 চক্রের ক্ষেত্রে প্রাথমিক কার্বক্সিলেশন ঘটায় রুবিস্কো (RuBisCO) এনজাইম। C4 চক্রে প্রাথমিক কার্বক্সিলেশন সম্পন্ন করে PEP কার্বক্সিলেজ।
৪. সংঘটন স্থান: C3 চক্র কেবল মেসোফিল কোষে সংঘটিত হয়। C4 চক্র মেসোফিল কোষ এবং বান্ডল সিথ কোষ—উভয় কোষে সম্পন্ন হয়।
৫. শারীরস্থানিক গঠন (Kranz anatomy): C3 উদ্ভিদের পাতায় ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি থাকে না। C4 উদ্ভিদের পাতায় সুস্পষ্ট ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি দেখা যায়।
৬. ফটোরেস্পিরেশন: C3 চক্রে উচ্চ তাপ ও আলোর উপস্থিতিতে ফটোরেস্পিরেশন ঘটে, যা খাদ্য উৎপাদন কমিয়ে দেয়। C4 চক্রে ফটোরেস্পিরেশন প্রায় অনুপস্থিত বা অত্যন্ত কম।
৭. সালোকসংশ্লেষণের হার ও পানির ব্যবহার দক্ষতা: C3 চক্রের তুলনায় C4 চক্রের সালোকসংশ্লেষণের হার এবং পানির ব্যবহার দক্ষতা অনেক বেশি।
সুতরাং, গঠন ও কর্মদক্ষতার দিক থেকে C4 চক্র ('খ') C3 চক্রের ('ক') তুলনায় অধিকতর উন্নত ও ফলপ্রসূ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও