সাহিত্য পাঠ • মানব-কল্যাণ • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সাগর সাহেবের বাসায় কাজ করে আয়না বিবি। মাস শেষে বেতন পেলেও ঠিকমতো খাবার পায় না সে। ক্ষুধার যন্ত্রণায় মাঝে মাঝে চুরি করে খাবার খায় আয়না। একদিন খাবার চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লে শাস্তি হিসেবে প্রহার করে তাকে তাড়িয়ে দেয়। । আয়না বলে, "পেটে থাকলে চুরি না করে উপায় কী?"
- ক)(1)
সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত কার উন্নতি নাই?
- খ)(2)
'তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্য জাতির রোগ'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের খাবার চুরি 'বিড়াল' রচনার কোন প্রসজোর সাথে কেন সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের আয়না বিবি এবং 'বিড়াল' রচনার বিড়াল অভিন্ন চেতনার ধারক।"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক ধনবৃদ্ধি ব্যতীত সমাজের কোনো শ্রেণিরই উন্নতি নেই।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্য জাতির রোগ'— কথাটি দ্বারা সমাজের সচ্ছল ও প্রাচুর্যময় ব্যক্তিদের আরও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং সুবিধাবঞ্চিতদের উপেক্ষা করার মানবপ্রবৃত্তিকে বোঝানো হয়েছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিড়াল’ প্রবন্ধে দেখা যায়, যাদের ঘরে অফুরন্ত খাদ্য আছে, মানুষ তাদেরই আদর-আপ্যায়ন করে ও সম্পদ বাড়াতে সাহায্য করে। অথচ ক্ষুধার জ্বালায় কাতর নিঃস্ব ও অভুক্তদের একটু খাবার না দিয়ে বরং প্রহার করে তাড়িয়ে দেয়। মানুষের এই কৃত্রিম ও পক্ষপাতদুষ্ট স্বভাব বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের খাবার চুরি ‘বিড়াল’ রচনার বিড়ালের দুধ চুরির প্রেক্ষাপটের সাথে তীব্র ক্ষুধার তাড়নায় জীবন রক্ষার সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘বিড়াল’ প্রবন্ধে বিড়ালটি কমলাকান্তের অসাবধানতায় তাঁর জন্য রাখা দুধ খেয়ে ফেলেছিল কোনো স্বভাবজাত লোভ বা চুরির উদ্দেশ্যে নয়, বরং পেটের তীব্র ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে। একইভাবে উদ্দীপকের আয়না বিবিও কাজ করা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত খাবার পেত না বলে ক্ষুধার যন্ত্রণায় টিকে থাকার জন্য খাবার চুরি করতে বাধ্য হয়েছে। উভয়ের ক্ষেত্রেই খাদ্যের অপ্রতুলতা এবং বাঁচার মৌলিক তাগিদ থেকেই চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা এই দুটি ঘটনার মধ্যকার মৌলিক সাদৃশ্য নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের আয়না বিবি এবং 'বিড়াল' রচনার বিড়াল অভিন্ন চেতনার ধারক"— মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
‘বিড়াল’ রচনায় বিড়াল কেবল একটি চারপেয়ে প্রাণী নয়, বরং সমাজের শোষিত, বঞ্চিত ও অবহেলিত শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতীক। বিড়াল যুক্তি দিয়ে কমলাকান্তকে বুঝিয়ে দেয় যে ধনীদের অতিরিক্ত প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও তারা দরিদ্রের ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করে না, ফলে বাধ্য হয়ে দরিদ্ররা চুরি করে; আর এর মূল অপরাধ সমাজের কৃপণ ধনীদের ওপর বর্তায়। উদ্দীপকের গৃহকর্মী আয়না বিবিও পরিশ্রম অনুযায়ী খাবার না পেয়ে ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করেছে এবং ধরা পড়ার পর স্পষ্ট যুক্তি দিয়ে বলেছে, "পেটে থাকলে চুরি না করে উপায় কী?"
উভয় চরিত্রই চুরির আপাত অপরাধকে সমাজের বৈষম্য ও বঞ্চনাকেন্দ্রিক বাস্তবতার আলোকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরে বঞ্চিতদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছে। তাই আয়না বিবি ও বিড়াল উভয়ই ক্ষুধা, বেঁচে থাকার লড়াই এবং শোষণের বিরুদ্ধে নীরব যুক্তিযুক্ত প্রতিবাদের অভিন্ন চেতনার ধারক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও