পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৬৬ সালের ছয় দফা
↓
রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ
↓
স্বাধীনতার ঘোষক
↓
বাংলাদেশের বাঙালি জাতির জনক
- ক)(1)
প্রথমবার পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয় কখন?
- খ)(2)
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলি কোন নেতার সংগে সংশ্লিষ্ট? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলির মাধ্যমে কি উক্ত নেতার সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানে প্রথমবার সামরিক শাসন জারি করা হয় ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর (প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা কর্তৃক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (সরকারি নাম: ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’) ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক দায়ের করা একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। এই মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, তাঁরা ভারতের আগরতলায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে গোপনে বৈঠক করে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করাই ছিল এর মূল বিষয়বস্তু।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সংগে সংশ্লিষ্ট।
ব্যাখ্যা:
১. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা: ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন, যা ছিল স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিত্তি।
২. রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
৩. স্বাধীনতার ঘোষক: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাত শেষে (২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করার পূর্বে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
৪. বাঙালি জাতির জনক: তাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হওয়ায় তিনি স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতা বা জাতির জনক হিসেবে ভূষিত হন।
অতএব, ছকের সবগুলো ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বকেই নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকে উল্লিখিত ঘটনাবলি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও চূড়ান্ত বাঁকগুলোকে নির্দেশ করে, তবে এর মাধ্যমে তাঁর সামগ্রিক রাজনৈতিক জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে না।
আমার মতামতের সপক্ষে কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. ছাত্র ও তরুণ বয়সের নেতৃত্ব: বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি থেকে। ১৯৪৮-৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দেন এবং কারাবরণ করেন। এই প্রাথমিক সংগ্রামের ইতিহাস উদ্দীপকে নেই।
২. যুক্তফ্রন্ট ও স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারে তাঁর ভূমিকা এবং ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব এখানে অনুপস্থিত।
৩. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও সত্তরের নির্বাচন: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৬৯ সালে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভ এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিজয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিশাল মাইলফলক, যা ছকে প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখ নেই।
৪. যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন ও সংবিধান প্রণয়ন: স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন, ১৯৭২ সালের সংবিধান উপহার দেওয়া, এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে তাঁর অবদানও তাঁর সামগ্রিক রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনাগুলো তাঁর রাজনৈতিক জীবনের স্বর্ণালী অধ্যায় হলেও তাঁর চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসের তুলনায় তা আংশিক রূপ তুলে ধরে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও