অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

গত বছর মিয়ানমার থেকে প্রায় নয় লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। ফলে বাংলাদেশে ব্যাপক হারে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দেয়। এ সুযোগে ফল, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ভালো রাখতে এবং পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে অসাধু ব্যবসায়ীগণ এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। জনসাধারণ না বুঝেই ভেজাল খাদ্য ক্রয় করে।

  1. ক)

    খাদ্যের প্রাপ্যতা কী?

    (1)
  2. খ)

    নিরাপদ খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে অসাধু ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম কীভাবে খাদ্যের কার্যকারিতা ধ্বংস করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সমস্যার আলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সরকারের কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে তুমি মনে কর তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, মজুত এবং আমদানির মাধ্যমে খাদ্যের যে মোট জোগান সৃষ্টি হয়, তাকে খাদ্যের প্রাপ্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিরাপদ খাদ্য মানুষের সুস্বাস্থ্য, শারীরিক বৃদ্ধি ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য যদি ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভেজাল ও জীবাণুমুক্ত না হয়, তবে তা গ্রহণ করলে মানবদেহে ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি মরণব্যাধি সৃষ্টি হয়। নিরাপদ খাদ্য একদিকে যেমন রোগের ঝুঁকি কমিয়ে স্বাস্থ্যব্যয় হ্রাস করে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা বিকাশ ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে অসাধু ব্যবসায়ীদের খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক (কেমিক্যাল) ব্যবহারের কর্মকাণ্ড সরাসরি খাদ্যের কার্যকারিতা বা উপযোগিতা ধ্বংস করছে।

    খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো খাদ্যের কার্যকারিতা বা পুষ্টিমান গ্রহণোপযোগিতা (Food Utilization)। খাদ্যের কার্যকারিতা বলতে বোঝায় দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ ও সঠিকভাবে শরীরে ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমনের ফলে খাদ্য ঘাটতির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পচন রোধের নামে ফল, মাছ ও মাংসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করছে। এসব রাসায়নিকের কারণে খাদ্যের প্রাকৃতিক খাদ্যগুণ ও পুষ্টিমান সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়। ফলস্বরূপ মানুষ খাদ্য গ্রহণ করলেও শরীর পুষ্টি পাওয়ার পরিবর্তে বিষাক্ত উপাদানের শিকার হয়, যা খাদ্যের পুষ্টিগত কার্যকারিতা বিনষ্ট করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সমস্যার আলোকে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের সমন্বিত আইনি, প্রশাসনিক ও নজরদারিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

    প্রথমত, সরকারের ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এবং সংশ্লিষ্ট ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যে রাসায়নিক ও ক্ষতিকারক প্রিজারভেটিভ ব্যবহারকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, জরিমানা ও কারখানা/দোকান সিলগালা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বাজার নজরদারি এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
    তৃতীয়ত, খাদ্য পচন রোধে কেমিক্যালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত আধুনিক হিমাগার (Cold Storage) এবং নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
    চতুর্থত, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ দেশের খাদ্য সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যের জোগান ও আমদানি তদারকি বাড়াতে হবে, যাতে কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়। একই সাথে গণমাধ্যমে রাসায়নিকযুক্ত খাদ্যের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

    পরিশেষে বলা যায়, নিয়মিত তদারকি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বিকল্প নিরাপদ সংরক্ষণ সুবিধার বিস্তার ঘটিয়ে সরকার দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন