জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : চিত্র-Q চিত্র-P


- ক)(1)
জীববৈচিত্র্যের সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
ভ্রূণীয় স্তর বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' চিহ্নিত পর্বের প্রাণীদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত P ও Q তার পরবর্তী পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈসাদৃশ্যগুলো পর্যালোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৃথিবীর জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষে বসবাসকারী সকল জীবের মধ্যে জিনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক যে ভিন্নতা বা বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে জীববৈচিত্র্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌন প্রজননকারী বহুকোষী প্রাণীর ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের গ্যাস্ট্রুলা পর্যায়ে ব্লাস্টোডার্ম থেকে সৃষ্ট যে কোষীয় স্তরগুলো থেকে পরবর্তীতে ভ্রূণের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্র সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে ভ্রূণীয় স্তর (Germ layer) বলে। ভ্রূণীয় স্তর দ্বিস্তরী প্রাণীদের ক্ষেত্রে দুটি (এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) এবং ত্রিস্তরী প্রাণীদের ক্ষেত্রে তিনটি (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) স্তরে বিভক্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-P প্রাণীটি হলো নেরিস (Nereis), যা অ্যানেলিডা (Annelida) পর্বের অন্তর্ভুক্ত।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং প্রকৃত খণ্ডকায়নযুক্ত (মেটামেরিজম বিদ্যমান)।
২. এদের দেহপ্রাচীর কিউটিকল দ্বারা আবৃত এবং প্রকৃত সিলোমযুক্ত (ইউসিলোমেট)।
৩. চলন অঙ্গ হিসেবে কাইটিনময় সিটি (setae) অথবা মাংসল প্যারাপোডিয়া (parapodia) উপস্থিত থাকে।
৪. রেচন অঙ্গ হিসেবে প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে একজোড়া করে নেফ্রিডিয়া (nephridia) থাকে।
৫. এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং রক্তরসে হিমোগ্লোবিন বা ক্লোরোক্রুওরিন দ্রবীভূত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিত্র-P হলো অ্যানেলিডা (Annelida) পর্বের প্রাণী (নেরিস) এবং চিত্র-Q হলো মলাস্কা (Mollusca) পর্বের প্রাণী (শামুক)। অ্যানেলিডার পরবর্তী প্রধান পর্ব হলো আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) অথবা উদ্দীপকে উল্লিখিত P (Annelida) ও Q (Mollusca) পর্বদ্বয়ের মধ্যে তুলনা ও তাদের পরবর্তী পর্বের সাপেক্ষে বৈসাদৃশ্য পর্যালোচনা করা হলো:
অ্যানেলিডা (P) এবং মলাস্কা (Q) পর্বের প্রাণীদের প্রধান প্রধান বৈসাদৃশ্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দেহ গঠন ও খণ্ডকায়ন: অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকার এবং আংটির মতো স্পষ্ট সমখণ্ডকবিশিষ্ট (Metameric segmentation)। পক্ষান্তরে, মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম, মাংসল এবং সাধারণত অখণ্ডকায়িত।
২. বহিঃকঙ্কাল ও খোলক: অ্যানেলিডাদের দেহ কাইটিনময় কিউটিকল দ্বারা আবৃত থাকে এবং কোনো খোলক থাকে না। কিন্তু মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের দেহ চুনময় শক্ত খোলক (Shell) দ্বারা আবৃত থাকে যা ম্যান্টল পর্দা থেকে ক্ষরিত হয়।
৩. ম্যান্টল ও ম্যান্টল গহ্বর: অ্যানেলিডাদের ক্ষেত্রে ম্যান্টল অনুপস্থিত। অপরদিকে, মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের দেহ ম্যান্টল নামক একটি পাতলা পেশিময় পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে, যা একটি গহ্বর (ম্যান্টল গহ্বর) সৃষ্টি করে।
৪. চলন অঙ্গ: অ্যানেলিডাদের প্রধান চলন অঙ্গ হলো সিটি (Setae) বা প্যারাপোডিয়া (Parapodia)। পক্ষান্তরে, মলাস্কাদের ক্ষেত্রে চলন অঙ্গ হিসেবে সুগঠিত মাংসল পদ (Muscular foot) উপস্থিত থাকে।
৫. রেচনতন্ত্র: অ্যানেলিডার রেচন অঙ্গ মূলত কুণ্ডলিত নেফ্রিডিয়া (Nephridia), যা প্রতি খণ্ডকে বিদ্যমান। মলাস্কাদের রেচন অঙ্গ হিসেবে বিশেষায়িত নেফ্রিডিয়া বা বোজানাসের অঙ্গ (Organ of Bojanus) কাজ করে।
৬. রক্ত সংবহনতন্ত্র: অ্যানেলিডা পর্বের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, যেখানে রক্ত সর্বদা রক্তনালি ও হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে সংবাহিত হয়। অপরপক্ষে, মলাস্কা পর্বের রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত মুক্ত প্রকৃতির (হিমোসিল বিদ্যমান), তবে সেফালোপোডায় ব্যতিক্রম দেখা যায়।
৭. মুখোপাঙ্গ ও পরিপাক: মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের মুখগহ্বরে কাইটিনযুক্ত খাদ্য চর্বনকারী অঙ্গ র্যাडुলা (Radula) বিদ্যমান, যা অ্যানেলিডা পর্বে অনুপস্থিত।সুতরাং, দৈহিক গঠন, খণ্ডকায়ন, চলন অঙ্গ, খোলকের উপস্থিতি এবং সংবহনতন্ত্রের প্রকৃতির দিক থেকে P ও Q পর্বের প্রাণীদের মধ্যে সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও