জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাজার করতে গিয়ে রাহি চিংড়ি দেখে বলল, আজ যত দাম হোক বড় বড় চিংড়ি মাছ নিয়ে যাব। এ মাছ আমার খুব পছন্দ। তাঁর বড় ভাই দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানের ছাত্র। সে বলল, "ভাল কথা। তবে জেনে রেখ, চিংড়ি কিন্তু মাছ নয়। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে চিংড়ির চেয়ে মাছ অনেক উন্নত প্রাণী।"
- ক)(1)
সিলোম কী?
- খ)(2)
সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রাহির পছন্দের প্রাণীটি কর্ডেট নয়- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ বাক্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ত্রিস্তরী প্রাণীর ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট এবং মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত দেহগহ্বরকে সিলোম (Coelom) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্ডাটা পর্বের সকল প্রাণীর জীবনের কোনো না কোনো দশায় নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র উপস্থিত থাকে। তবে কর্ডাটার তিনটি উপপর্বের মধ্যে কেবল 'ভার্টিব্রাটা' উপপর্বের প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই ভ্রূণীয় নটোকর্ডটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ডে প্রতিস্থাপিত হয়। ইউরোকর্ডাটা ও সেফালোকর্ডাটা উপপর্বের প্রাণীদের ক্ষেত্রে নটোকর্ড কখনোই মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয় না। অর্থাৎ, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত হলেও কেবল ভার্টিব্রাটা উপপর্বের প্রাণীরাই মেরুদণ্ডী। তাই বলা হয়— "সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট, কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়।"
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রাহির পছন্দের প্রাণীটি হলো 'চিংড়ি'। চিংড়ি কর্ডাটা পর্বের প্রাণী নয়, বরং এটি অমেরুদণ্ডী বা নন-কর্ডাটাভুক্ত আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের প্রাণী।
কর্ডাটা পর্বের প্রধান মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং চিংড়ির বৈশিষ্ট্যের বৈসাদৃশ্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নটোকর্ড: কর্ডেট প্রাণীদের জীবনের যেকোনো দশায় বা আজীবন স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড থাকে। কিন্তু চিংড়ির দেহে কখনো কোনো নটোকর্ড থাকে না।
২. স্নায়ুরজ্জু: কর্ডেটদের স্নায়ুরজ্জু নলাকার, ফাঁপা এবং দেহের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত। পক্ষান্তরে, চিংড়ির স্নায়ুতন্ত্র অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত এবং নিরেট গ্যাংগলিয়নযুক্ত দ্বৈত স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত।
৩. ফুলকা রন্ধ্র ও গলবিল: কর্ডেটদের ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন গলবিলের উভয় পাশে গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র থাকে। চিংড়িতে কোনো গলবিলীয় ফুলকা রন্ধ্র থাকে না; এদের শ্বসন অঙ্গ হিসেবে বুক গিল বা বিশেষ ফুলকা রয়েছে।
৪. হৃদযন্ত্র ও রক্ত সংবহনতন্ত্র: কর্ডেটদের হৃদযন্ত্র দেহের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত এবং সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির। কিন্তু চিংড়ির হৃদযন্ত্র পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত এবং এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র উন্মুক্ত ধরনের (হিমোসিল ও হিমোলিম্ফ বিদ্যমান)।সুতরাং, কর্ডাটা পর্বের মৌলিক শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুপস্থিত থাকায় চিংড়ি কর্ডেট নয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো: "বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে চিংড়ির চেয়ে মাছ অনেক উন্নত প্রাণী।" বাক্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিচে এদের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শ্রেণিগত অবস্থান: চিংড়ি হলো নন-কর্ডাটাভুক্ত আর্থ্রোপোডা পর্বের ম্যালোকোস্ট্রাকা শ্রেণির প্রাণী। অপরদিকে, প্রকৃত মাছ হলো কর্ডাটা পর্বের মেরুদণ্ডী (ভার্টিব্রাটা উপপর্বের কনড্রিকথিস, একটিনোপটেরিজি বা সারকোপটেরিজি শ্রেণির) প্রাণী। বিবর্তনীয় ধারায় কর্ডেটরা নন-কর্ডাটা থেকে অনেক বেশি আধুনিক ও উন্নত।
২. কঙ্কালতন্ত্র: চিংড়ির কোনো অন্তঃকঙ্কাল নেই; এদের দেহ কাইটিনযুক্ত শক্ত বহিঃকঙ্কালে আবৃত। বিপরীতে, মাছের দেহে জটিল ও সুগঠিত অস্থি বা তরুণাস্থিময় অন্তঃকঙ্কাল এবং মেরুদণ্ড বিদ্যমান।
৩. রক্ত সংবহনতন্ত্র: চিংড়ির রক্ত সংবহনতন্ত্র অনুন্নত এবং উন্মুক্ত প্রকৃতির, যেখানে রক্ত হিমোসিলে উন্মুক্ত হয়। কিন্তু মাছে উন্নত, সুগঠিত ও বদ্ধ প্রকৃতির রক্ত সংবহনতন্ত্র রয়েছে, যাতে রক্তনালিকা ও প্রকোষ্ঠযুক্ত হৃৎপিণ্ড উপস্থিত।
৪. স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক: চিংড়ির স্নায়ুতন্ত্র অঙ্কীয় গ্যাংগলিয়নভিত্তিক ও সরল প্রকৃতির। পক্ষান্তরে, মাছের পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু মস্তিস্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে বিভক্ত এবং এদের মস্তিষ্ক সুরক্ষিত করোটির ভেতরে অবস্থিত, যা উন্নত সংবেদনশীলতা প্রদান করে।
৫. রেচনতন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ: চিংড়ির রেচন অঙ্গ গ্রিন গ্ল্যান্ড বা সবুজ গ্রন্থি, যা অপেক্ষাকৃত সরল। অন্যদিকে, মাছের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো উন্নত বৃক্ক (মেসোনেফ্রিক কিডনি)।
অতএব, দৈহিক গঠন, জটিল তন্ত্রসমূহ, স্নায়বিক বিকাশ এবং বিবর্তনীয় অবস্থান—সব দিক থেকেই চিংড়ির চেয়ে মাছ একটি অনেক বেশি উন্নত ও জটিল প্রাণী। সুতরাং, উদ্দীপকের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও বিজ্ঞানসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও