যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব বুদ্ধিমান ও বিচারশক্তি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন।
- ক)(1)
বিধেয়ক কাকে বলে?
- খ)(2)
বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে কোন ধরনের বিধেয়কের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির গুণগুলোর সম্পর্কে পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো.
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদর্থক যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয়র পারস্পরিক সম্বন্ধকে বিধেয়ক (Predicable) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি পদ যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। পক্ষান্তরে, বিধেয়ক হলো সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি বা সম্বন্ধ। বিধেয় একটি বাস্তব পদ, কিন্তু বিধেয়ক হলো একটি বিমূর্ত সম্বন্ধ। এছাড়া নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় থাকে কিন্তু কোনো বিধেয়ক থাকে না। তাই বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম বাক্যটিতে 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য লক্ষণ' (বা অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
যে গুণ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর মূল জাত্যর্থের অংশ নয় এবং যা কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তি বা বস্তুটি থেকে আলাদা করা যায় না, তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। যেমন—জন্মস্থান, জন্মতারিখ বা বিশেষ পরিবারে জন্ম ইত্যাদি।
উদ্দীপকের প্রথম বাক্যে বলা হয়েছে, 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।' রবীন্দ্রনাথের জন্য জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেওয়া এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা তাঁর মূল মনুষ্যত্বের জাত্যর্থ নয়, অথচ তাঁর জীবন থেকে এই তথ্য বা ঘটনাটিকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। এটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সম্পূর্ণ অবিচ্ছেদ্য। তাই বাক্যটিতে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো— 'তিনি খুব বুদ্ধিমান ও বিচারশক্তি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন।' এখানে দুটি গুণের কথা বলা হয়েছে: 'বিচারশক্তি' এবং 'অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা'। এগুলোর প্রকৃতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উপলক্ষণ (বিচারশক্তি): যে গুণ কোনো পদের জাত্যর্থের অংশ নয়, কিন্তু জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। মানুষের মূল জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। বুদ্ধিবৃত্তি থাকার কারণেই মানুষের মধ্যে বিচারশক্তি বা বিবেচনা করার ক্ষমতা অনিবার্যভাবে সৃষ্টি হয়। তাই রবীন্দ্রনাথের 'বিচারশক্তি সম্পন্ন' হওয়া একটি উপলক্ষণ (বিশেষত ব্যক্তিগত উপলক্ষণ বা মানবজাতির সাধারণ উপলক্ষণ)।
২. অবান্তর লক্ষণ (বুদ্ধিমান হওয়া): মানুষ মাত্রই বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন, কিন্তু 'খুব বুদ্ধিমান' হওয়া বা বিশেষ মাত্রার বুদ্ধিমত্তা থাকা জাত্যর্থের অংশ নয় এবং জাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না। এটি একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যা ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরিবর্তনশীল বা বিচ্ছেদযোগ্যও হতে পারে। ফলে এটি ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণের অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ বাক্যের গুণগুলোর মধ্যে 'বিচারশক্তি' হলো বুদ্ধিবৃত্তি নিঃসৃত উপলক্ষণ এবং 'খুব বুদ্ধিমান হওয়া' হলো একটি অবান্তর লক্ষণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও