কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

নানা ধরনের সংক্রামক রোগব্যাধি পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে, প্রতি বৎসরই অনেক পোল্ট্রি খামারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাঁস মুরগি পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এ সকল রোগের মধ্যে মুরগির একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যাতে আক্রান্ত হলে মুরগি সাদা চুনের মতো পাতলা মলত্যাগ করে এবং হা করে শ্বাস গ্রহণ করে। আবার, হাঁসেরও তেমনি একটি রোগ যাতে আক্রান্ত হলে হাঁসের পা ও পাখা অবশ হয়ে যাওয়াসহ আরও নানাবিধ লক্ষণ প্রকাশ পায়।

  1. ক)

    পুলেট কী?

    (1)
  2. খ)

    ফাউমি জাতের মুরগির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মুরগির রোগটির কারণ ও লক্ষণসমূহ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হাঁসের রোগের লক্ষণসমূহ এবং রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডিম পাড়ার পূর্ববর্তী বয়সের বাড়ন্ত স্ত্রী মুরগিকে (সাধারণত ৫-৬ মাস বয়স পর্যন্ত) পুলেট (Pullet) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফাউমি জাতের মুরগির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. দৈহিক গঠন: এদের দেহ মাঝারি আকৃতির এবং পালকের রঙ সাদা-কালো ডোরাকাটা বা ছিটছিটযুক্ত হয়। মাথা ও গলার পালক সাধারণত সাদা থাকে।
    ২. ডিম উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ: এরা অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু এবং এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য উন্নত জাতের চেয়ে বেশি। দেশি আবহাওয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে লালন-পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং বছরে প্রায় ১৫০-২০০টি ডিম দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মুরগির রোগটি হলো 'রানীক্ষেত' (Ranikhet / Newcastle disease)।

    কারণ:
    এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। প্যারামিক্সো ভাইরাস (Paramyxovirus) নামক ভাইরাসের সংক্রমণের মাধ্যমে এ রোগ সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত মুরগির লালা, মল ও দূষিত খাদ্য-পানির মাধ্যমে সুস্থ মুরগিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

    লক্ষণসমূহ:
    ১. আক্রান্ত মুরগি সাদা চুনের মতো পাতলা মলত্যাগ করে।
    ২. মুরগি হা করে ঘাড় উঁচিয়ে বা শ্বাসকষ্টের কারণে হাঁপাতে হাঁপাতে শ্বাস গ্রহণ করে এবং নাক-মুখ দিয়ে তরল নির্গত হয়।
    ৩. মুরগি নিস্তেজ হয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকে এবং খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয়।
    ৪. অনেক সময় মুরগির মাথা নিচের দিকে বেঁকে যায়, প্যারালাইসিস বা ঘাড় ঘোরানোর মতো স্নায়বিক লক্ষণ দেখা দেয় এবং কিছুদিনের মধ্যে মুরগি মারা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হাঁসের রোগটি হলো 'ডাক প্লেগ' (Duck Plague) বা হাঁসের প্লেগ রোগ। এটি হার্পিস ভাইরাস (Herpesvirus) দ্বারা সৃষ্ট একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।

    রোগের লক্ষণসমূহ:
    ১. আক্রান্ত হাঁস দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এদের পা ও পাখা অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে যায়, ফলে এরা হাঁটতে বা সাঁতার কাটতে পারে না।
    ২. হাঁসের চোখ ও নাক দিয়ে জলীয় পদার্থ বের হয় এবং আলো সহ্য করতে পারে না (ফটোফোবিয়া)।
    ৩. আক্রান্ত হাঁস সবুজ ও জলীয় ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা করে।
    ৪. তীব্র পিপাসা দেখা দেয় এবং দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটে মৃত্যুর হার অনেক বেড়ে যায়।

    রোগ প্রতিরোধে করণীয়:
    ১. টিকাদান: ডাক প্লেগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো সময়মতো সঠিক নিয়মে প্রতিষেধক টিকা (Duck Plague Vaccine) প্রয়োগ করা। হাঁসের বাচ্চার বয়স ৩-৪ সপ্তাহ হলে প্রথমবার এবং পরবর্তীতে নিয়মিত বুস্টার ডোজ দিতে হবে।
    ২. জৈব নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ: খামার ও হাঁসের বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। বহিরাগত পাখি বা প্রাণীর প্রবেশ রোধ করতে হবে।
    ৩. আক্রান্ত হাঁস পৃথকীকরণ: কোনো হাঁস আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে সুস্থ হাঁসের দল থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে।
    ৪. মৃত হাঁসের সৎকার: রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো হাঁস মারা গেলে তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে যাতে পরিবেশ ও পানির মাধ্যমে জীবাণু না ছড়ায়।

    পরিশেষে, ডাক প্লেগের কোনো কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই বলে নিয়মিত টিকাদান ও পরিচ্ছন্ন খামার ব্যবস্থাপনাই এই মারাত্মক রোগ থেকে পোল্ট্রি খামারকে রক্ষা করার একমাত্র উপায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন