সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

মুহিন ও পৃথা খালাতো ভাই বোন। দুজনই বিসিএস পাশ করে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছে। পারিবারিক সিদ্ধান্তে দুজন সম্প্রতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।

  1. ক)

    বহুবিবাহ কি?

    (1)
  2. খ)

    লেভিরেট বিবাহের তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মুহিন ও পৃথার জ্ঞাতি সম্পর্কের ধরন ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিবাহটি সামাজিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন পুরুষ বা একজন নারীর একই সময়ে একাধিক স্ত্রী বা স্বামী থাকা সংক্রান্ত বিবাহ পদ্ধতিকে বহুবিবাহ (Polygamy) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লেভিরেট (দেবর বিবাহ) হলো এমন এক ধরনের বিবাহ রীতি, যেখানে কোনো নারী বিধবা হলে তার মৃত স্বামীর কোনো ভাই (সাধারণত দেবর)-এর সাথে তার বিয়ে দেওয়া হয়।

    এর সামাজিক তাৎপর্য হলো—বিধবা নারী ও তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সম্পত্তি যেন বাইরের কারো হাতে চলে না যায় তা রক্ষা করা। এছাড়া এ বিবাহের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যকার বৈবাহিক মৈত্রী ও সম্পর্ক অটুট থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুহিন ও পৃথার জ্ঞাতি সম্পর্কের ধরন হলো 'রক্তসম্পর্কীয় সমান্তরাল খালাতো ভাই-বোন' (Parallel Cousins) এবং বিবাহের মাধ্যমে তা পরবর্তীতে 'বৈবাহিক জ্ঞাতিসম্পর্কে' রূপান্তরিত হয়েছে।

    সমাজবিজ্ঞানে জ্ঞাতিসম্পর্ক প্রধানত দুই ধরনের—রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি এবং বৈবাহিক জ্ঞাতি। সাধারণ জৈবিক সূত্রে বা একই রক্তধারা থেকে উদ্ভূত ব্যক্তিবর্গ হলো রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতি। উদ্দীপকে মুহিন ও পৃথা পরস্পরের খালাতো ভাই-বোন। অর্থাৎ, তাদের মায়েরা পরস্পরের আপন বোন। একই মায়ের বংশধারায় সমান্তরাল রক্তসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তারা রক্তসম্পর্কীয় প্যারালাল কাজিন (Parallel cousin)।

    অতএব, বিবাহের পূর্বে মুহিন ও পৃথা রক্তসম্পর্কীয় জ্ঞাতিভুক্ত ছিল এবং বিবাহের পর তাদের মধ্যে বৈবাহিক জ্ঞাতিসম্পর্কের সূচনা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিবাহটি হলো কাজিন ম্যারেজ (Cousin Marriage) বা প্যারালাল কাজিন ম্যারেজ (Parallel-cousin marriage), যা সামাজিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মুহিন ও পৃথা খালাতো ভাই-বোন হওয়া সত্ত্বেও পারিবারিক সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের বিবাহের সামাজিক তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ়করণ: আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ হওয়ার ফলে পরিবারের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া, ভালোবাসা এবং বন্ধন আরও গভীর ও সংহত হয়। এতে দাম্পত্য কলহ বা বিচ্ছেদের সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস পায়।
    ২. সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: উভয়েই বিসিএস ক্যাডার এবং সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক অবস্থান সমপর্যায়ের (Homogamy)। এর ফলে পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
    ৩. সম্পত্তির সংহতি রক্ষা: রক্তের বা বংশগত আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহের ফলে পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বংশের ভেতরেই সংরক্ষিত থাকে, যা যৌথ ও ঐতিহ্যগত পরিবার ব্যবস্থার একটি ইতিবাচক দিক।
    ৪. দ্রুত খাপ খাওয়ানো: পাত্র-পাত্রী এবং উভয় পরিবার পূর্ব থেকেই পরস্পরের সাথে পরিচিত থাকায় নববধূকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কোনো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় না।

    সুতরাং, উপরোক্ত দিকগুলো বিবেচনায় উদ্দীপকে বর্ণিত মুহিন ও পৃথার বিবাহটি সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন