অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

উন্নয়ন পরিকল্পনা ছাড়া কোনো দেশই উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে যা ২০১৫ সালে শেষ হয়। মূলত এই পরিকল্পনা উন্নয়ন কৌশল অবলম্বন করেই দেশটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথ সুগম করেছে।

  1. ক)

    প্ররোচিত পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    'পরিকল্পনা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের কোন পরিকল্পনার কথা বলা- হয়েছে? এই পরিকল্পনার তিনটি উদ্দেশ্য লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিকল্পনার উন্নয়ন কৌশলসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাজার ব্যবস্থার আওতায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা, কর রেয়াত বা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহিত করে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাকে প্ররোচিত পরিকল্পনা (Planning by Inducement) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়, কারণ একটি দেশের সম্পদ সীমিত কিন্তু চাহিদা অপরিসীম। একটি সুষ্ঠু অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের সীমিত মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা যায়। পরিকল্পনা না থাকলে সম্পদের অপচয় ঘটে, উৎপাদনের বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং জাতীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই টেকসই ও সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো পরিকল্পনা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের 'ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা'র (২০১১–২০১৫) কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১১ থেকে ২০১৫ মেয়াদে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে।

    ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিচে দেওয়া হলো:
    ১. ত্বরান্বিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন: জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে মেয়াদান্তে ৮ শতাংশে উন্নীত করা।
    ২. দারিদ্র্য বিমোচন: দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির জন্য পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল ও লাভজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১১–২০১৫) অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল এর বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উন্নয়ন কৌশলসমূহ, যা বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিচে এ পরিকল্পনার প্রধান উন্নয়ন কৌশলসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: এই পরিকল্পনায় বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যবসা সহজীকরণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) জোরদার করার কৌশল নেওয়া হয়।

    ২. কৃষি রূপান্তর ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৃষির বহুমুখীকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তর ঘটানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়।

    ৩. রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন: শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল ইত্যাদি খাতে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দ্রুত রপ্তানি বৃদ্ধির কৌশল নেওয়া হয়।

    ৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন: স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং গুণগত শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসনে সহায়তা করে।

    ৫. আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ: দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলসমূহে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবকাঠামোগত সংযোগ বাড়িয়ে আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আনার কৌশল অবলম্বন করা হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার এসব সুনির্দিষ্ট কৌশল দেশের অর্থনীতির ভিত্তিকে মজবুত করেছে এবং বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের পথকে ত্বরান্বিত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন