সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার সূর্য-কুঁড়িফৌজের হাঁকে কাঁপে থরধর দস্যুপুরীনিমেষে ছড়ায় তারই আওয়াজ দিগন্তরেমনে কি পড়ে?
- ক)(1)
‘রেইনকোট’ গল্পের কলেজের পিওনের নাম কী?
- খ)(2)
“ভোর রাত থেকে বৃষ্টি”- এই ‘বৃষ্টি’ সম্পর্কে নুরুল হুদার অভিব্যক্তি বর্ণনা কর।
- গ)(3)
অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার সূর্য-কুঁড়ি বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ‘রেইনকোট’ গল্পের আঙ্গিকে আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট’ গল্পে বাঙালিদের যে জাতীয় চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘রেইনকোট’ গল্পের কলেজের পিওনের নাম ইসহাক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“ভোর রাত থেকে বৃষ্টি”- এই বৃষ্টি সম্পর্কে নুরুল হুদা ভেবেছিল যে এটি কোনো সাধারণ বর্ষণ নয়, বরং এই বাদলার কারণে হয়তো মুক্তিযোদ্ধাদের বা ‘মিসক্রিয়েন্টদের’ তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে এবং মিলিটারি বাহিনী কিছুটা বিপাকে পড়বে।
একই সাথে নুরুল হুদার মনে বৃষ্টির কারণে ঠান্ডা ও আলস্যের অনুভূতি আসলেও, মিলিটারির সম্ভাব্য অভিযানের ভয় ও তল্লাশির আশঙ্কায় তার মন শঙ্কিত হয়ে উঠেছিল। সে ভেবেছিল এমন দিনে মিলিটারি হয়তো ঘর থেকেই বের হবে না, ফলে দিনটি স্বস্তির হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘অযুত প্রাণের অগ্নিশিখার সূর্য-কুঁড়ি’ বলতে উদ্দীপকে মুক্তিকামী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য সাহস, অমিত তেজ এবং দেশপ্রেমের স্ফুলিঙ্গকে বোঝানো হয়েছে।
‘রেইনকোট’ গল্পের প্রেক্ষাপটে একাত্তরের অবরুদ্ধ ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াইরত তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের এই সূর্য-কুঁড়ির সাথে তুলনা করা যায়। গল্পে নুরুল হুদার শ্যালক মিন্টু এবং তার মতো তরুণ গেরিলারা প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করার শপথ নিয়েছিল। তাদের গেরিলা আক্রমণের তীব্রতা হানাদার বাহিনীকে সন্ত্রস্ত করে তোলে। এই অকুতোভয় তরুণদের তেজস্বী আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধ স্পৃহাই রূপক অর্থে ‘অগ্নিশিখার সূর্য-কুঁড়ি’, যারা পরাধীনতার অন্ধকার দূর করে স্বাধীনতার আলো নিয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও ‘রেইনকোট’ গল্প উভয়টিতেই অবরুদ্ধ স্বদেশে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দেশপ্রেম ও সশস্ত্র প্রতিরোধের জাতীয় চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে।
উদ্দীপকে ফৌজের বা মুক্তিসেনাদের হুংকারে ‘দস্যুপুরী’ অর্থাৎ হানাদার বাহিনীর ভিত কেঁপে ওঠার কথা এবং মুক্তিকামী জনতার তেজোদীপ্ত জাগরণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা বাঙালির সম্মিলিত প্রতিরোধ যুদ্ধ ও স্বাধীনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
‘রেইনকোট’ গল্পে সাধারণ ভীরু স্বভাবের কলেজ প্রভাষক নুরুল হুদার মধ্য দিয়ে জাতীয় চেতনার এই পরিবর্তন ও স্ফুরণ বিশেষভাবে দেখানো হয়েছে। শ্যালক মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোটটি গায়ে জড়ানোর পর সাধারণ নুরুল হুদার ভেতরের ভীরুতা দূর হয়ে যায় এবং তার মধ্যে দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের এক অদ্ভুত উষ্ণতা সঞ্চারিত হয়। হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখেও সে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন ঠিকানার কথা ফাঁস করেনি, বরং নিজেকে গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অনুভব করেছে।
অতএব, উদ্দীপকের প্রত্যক্ষ গেরিলা যুদ্ধের তেজ এবং গল্পের নুরুল হুদার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর—উভয় ক্ষেত্রেই একাত্তরের মুক্তিকামী বাঙালি জাতির অবিনাশী চেতনা ও আত্মত্যাগের অবিস্মরণীয় স্ফুরণ লক্ষ করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও