পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জাতীয়তা একটি মানসিক ধারণা। একই ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, বংশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য কিংবা ভৌগোলিক সান্নিধ্যতার সূত্রে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন নিজেদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে আলাদা মনে করে তখন সেই জনসমষ্টিকে জাতীয়তা বলে। ১৯৫২ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায় এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ প্রশস্ত করে।
- ক)(1)
কত সালে পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি তোমার পঠিত কোন বিষয়কে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ প্রশস্থ করে- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের একটি নির্বাচনী মোর্চা বা জোট। তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল মিলে এই যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি আমার পঠিত ১৯৫২ সালের 'ভাষা আন্দোলন'কে নির্দেশ করেছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর প্রতিবাদে বাঙালি সমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি তার ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য উপলব্ধি করে এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বাইরে গিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়, যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তিস্থাপন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি সমাজে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করেছিল— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য।
১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই বাঙালিদের শোষণ করতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলার জনগণকে উপলব্ধি করায় যে ধর্মের চেয়ে তাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বেশি শক্তিশালী। ভাষা আন্দোলনে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নির্বিশেষে সকল শ্রেণির বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেয়।
এরই প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাব কমতে থাকে। ১৯৫৫ সালে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে 'আওয়ামী লীগ' আত্মপ্রকাশ করে। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় ধর্মীয় বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার কথা বলা হয়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্ম হয়, তা পরবর্তীকালে ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও