গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা • তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
সুমী একজন চিকিৎসক। তার কাছে তিনজন রোগী এসেছে। প্রথম রোগী রাতে ভালো দেখতে পারে না। দ্বিতীয় রোগীর পায়ের হাড় ধনুকের মত বাঁকা এবং তৃতীয় রোগীর দাঁতের মাড়ি ফুলে গেছে আর দাঁত দিয়ে রক্ত পড়ছে।
- ক)(1)
কাজ অনুযায়ী খাদ্যকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
- খ)(2)
দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে খাদ্য উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম-বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ১ম রোগীর রোগ উল্লেখপূর্বক এর কারণ ও প্রতিরোধ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় ও ৩য় রোগীর রোগ উল্লেখপূর্বক এর কারণ ও প্রতিরোধ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজ অনুযায়ী খাদ্যকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহের কোষ গঠন, নতুন কলা সৃষ্টি এবং দেহের সামগ্রিক শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন ও খনিজ লবণের মতো খাদ্য উপাদান অপরিহার্য। বিশেষ করে প্রোটিন দেহকোষের মূল উপাদান এবং নিয়মিত ক্ষয়রোধ ও নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। অন্যদিকে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি হাড় ও দাঁতের গঠন সুদৃঢ় করে। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, যা সামগ্রিক শারীরিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ১ম রোগী রাতে ভালো দেখতে পারে না; অর্থাৎ সে 'রাতকানা' (Night Blindness) রোগে আক্রান্ত।
কারণ: খাদ্যে ভিটামিন 'এ'-এর তীব্র অভাব হলে চোখের রেটিনার রড কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে স্বল্প আলোতে বা রাতে রোগী স্পষ্ট দেখতে পারে না।
প্রতিরোধ: ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন- ছোট মাছ (মলা, ঢেলা), ডিমের কুসুম, দুধ, কলিজা এবং হলুদ ও সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল (যেমন- গাজর, পাকা আম, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক ইত্যাদি) নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় রোগী 'রিকেটস' (Rickets) এবং ৩য় রোগী 'স্কার্ভি' (Scurvy) রোগে আক্রান্ত। নিম্নে এদের কারণ ও প্রতিরোধ বিশ্লেষণ করা হলো:
২য় রোগীর রোগ (রিকেটস):
কারণ: ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম বা ফসফরাসের অভাবে শিশুদের হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায় এবং দেহের ভারে হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়। সূর্যের আলোতে ত্বক উন্মুক্ত না হওয়া বা পুষ্টিহীন খাবার এর প্রধান কারণ।
প্রতিরোধ: ভিটামিন 'ডি' ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাদ্য যেমন- দুধ, মাখন, ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, কড লিভার অয়েল ইত্যাদি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন সকালের নরম রোদ গায়ে লাগালে ত্বক প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন 'ডি' তৈরি করে, যা রিকেটস প্রতিরোধ করে।৩য় রোগীর রোগ (স্কার্ভি):
কারণ: ভিটামিন 'সি' (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)-এর অভাবে মাড়ি ফুলে ওঠে, মাড়ি নরম ও স্পঞ্জের মতো হয়ে রক্ত পড়ে এবং দাঁত আলগা হয়ে যায়।
প্রতিরোধ: নিয়মিত ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু, জাম্বুরা ও কাঁচা শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। রান্না করলে বা তাপে ভিটামিন 'সি' নষ্ট হয়ে যায়, তাই এগুলো কাঁচা বা তাজা খাওয়া উচিত।সুতরাং, সঠিক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমেই এই রোগ দুটি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও