সাহিত্য পাঠ • আঠারো বছর বয়স • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মালিহা আর নীলা সহপাঠী। দুজনেই লেখাপড়ায় বেশ ভালো। স্কুলজীবন পার হতে না হতেই নীলা মিশে যায় কিছু বখাটে বন্ধুর সাথে। এখানে তার শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। তার নাম শুনলে মেয়েরা আঁতকে ওঠে। অপরদিকে মালিহা কলেজ পেরিয়ে মেডিকেল কলেজে পড়ে। বাংলাদেশের অবহেলিত নারীদের অধিকার আদায়ে সে এখন কাজ করে। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। সংগঠিত করে সহপাঠী মেয়ে বন্ধুদের, আর প্রতিজ্ঞা করে জীবন দিয়ে হলেও নারীদের যথাযথ অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেই।
- ক)(1)
আঠারো বছর বয়স পদাঘাতে কী ভাঙতে চায়?
- খ)(2)
“এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।”- কবির এ প্রত্যাশা কেন?
- গ)(3)
‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা’- উক্তিটি উদ্দীপকের নীলার ক্ষেত্র কীভাবে প্রযোজ্য? বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
“আত্মত্যাগ ও মানবকল্যাণ আঠারো বছর বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য”- উদ্দীপক ও ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আঠারো বছর বয়স পদাঘাতে পাথর বা বাধার পাথর ভাঙতে চায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কিশোর-তরুণদের উদ্দীপনা, সাহসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় এবং কল্যাণমুখী শক্তি দিয়ে দেশের জড়তা, অন্যায় ও শোষণ দূর করার জন্যই কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য এ প্রত্যাশা করেছেন।
আঠারো বছর বয়স হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ত্যাগ এবং নবজাগরণের প্রতীক। সমাজ ও রাষ্ট্রের স্থবিরতা, কুসংস্কার এবং পরাধীনতার গ্লানি মুছে ফেলে একটি সুন্দর ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে এ বয়স অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তাই জাতির সকল ক্রান্তিলগ্নে তারুণ্যের তেজ ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতেই কবি দেশের বুকে আঠারো নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা’- উক্তিটি উদ্দীপকের নীলার বিপথগামী হওয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অসৎসঙ্গে জড়িয়ে জীবনের গতিপথ বদলে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি এর মারাত্মক ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণের এ সময়ে মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত ও প্ররোচিত হতে পারে। সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে খারাপ সংসর্গ বা কুপ্ররোচনায় পড়ে এ বয়সের অনেকে বিপথগামী হয়।
উদ্দীপকের নীলা মেধাবী ও ভালো ছাত্রী হওয়া সত্ত্বেও স্কুলজীবন পেরোতেই কিছু বখাটে বন্ধুর পাল্লায় পড়ে। তাদের কুপ্ররোচনা ও অসৎসঙ্গে জড়িয়ে তার শিক্ষাজীবনের অপমৃত্যু ঘটে এবং সে সমাজের জন্য এক ভীতিকর চরিত্রে পরিণত হয়। তারুণ্যের এ পদস্খলন এবং প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হওয়ার বাস্তবতাই ‘এ বয়সে কানে আসে কত মন্ত্রণা’ চরণের মাধ্যমে নীলার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা উভয়েই স্পষ্ট করে তোলে যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আত্মত্যাগ করা এবং নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করাই আঠারো বছর বয়সের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তরুণদের অমিত সাহস, নিঃস্বার্থ আত্মদান এবং মানবতার জয়গানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ বয়সের তরুণেরা কোনো বাধাকে পরোয়া করে না। তারা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দেশের ও সমাজের মঙ্গলের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকে। তাদের তাজা রক্তে তারা সমাজের সকল অন্যায় ও কুসংস্কারকে দূর করতে ব্রতী হয়।
উদ্দীপকের মালিহা চরিত্রটির মধ্যেও এ মহান চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মালিহা মেডিকেল কলেজে পড়ার পাশাপাশি দেশের অবহেলিত ও নিপীড়িত নারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছে। সে বন্ধুদের সংগঠিত করে এবং প্রয়োজন হলে নিজের জীবন দিয়েও নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে। মালিহার এই নির্ভীক মনোভাব কবিতার সেই তরুণের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়, যারা আত্মত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে মানবকল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সুতরাং, অন্যায়ের প্রতিবাদে নির্ভীক থাকা, নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা এবং জীবন বাজি রেখে অধিকার প্রতিষ্ঠার যে চিত্র উদ্দীপকের মালিহা এবং ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে, তার আলোকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও