পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ ভারতে শাসকদের প্রতি জনগণের অসন্তোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় একজন সাবেক ব্রিটিশ আমলা ভারতে ব্রিটিশ অনুগত রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান এবং তিনি একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- ক)(1)
কোন বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান হয়? ১
- খ)(2)
বারাসাত বিদ্রোহ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, তার প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক দলটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বারাসাত বিদ্রোহ হলো উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং স্থানীয় জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিতুমীরের (সৈয়দ মীর নিসার আলী) নেতৃত্বে পরিচালিত এক ঐতিহাসিক কৃষক ও ধর্মীয় আন্দোলন। ১৮৩১ সালে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমায় তিতুমীর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যা ইতিহাসে 'বারাসাত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ভারতের সাবেক ব্রিটিশ আমলা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কর্তৃক ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ছিল:
১. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সাংবিধানিক উপায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার দাবি করা।
২. ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
৩. জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির অনুভূতি জাগ্রত করা।
৪. শিক্ষিত ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যাসমূহ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল—এ বক্তব্যটি যথার্থ।
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর শুরুতে কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের নীতি অনুসরণ করত। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাল গঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায় এবং বিপিন চন্দ্র পালের মতো চরমপন্থী নেতাদের উত্থানের ফলে কংগ্রেস স্বরাজের দাবিতে সোচ্চার হয়। পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস একটি প্রকৃত গণআন্দোলনে রূপ নেয়। গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০) এবং ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) সমগ্র ভারতে ব্রিটিশবিরোধী তীব্র গণজাগরণ সৃষ্টি করে। কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদি অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্রিটিশ সরকারকে শেষ পর্যন্ত বাধ্য করে ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে।
অতএব, ভারতের আপামর জনগণকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটাতে জাতীয় কংগ্রেস সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও