ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. মেরী একটি পোশাক কারখানার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাজের সাথে জড়িত কারখানাটি ২০১৫ সালে ১১ লক্ষ পিচ প্যান্ট তৈরির লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করে। নিয়োজিত শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র ৩ লক্ষ পিচ প্যান্ট তৈরিতে সক্ষম হয়। পরিচালনা পর্ষদ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন অবহেলার প্রমাণ খুঁজে পাননি। এমতাবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর্তৃপক্ষ চিন্তিত।

  1. ক)

    পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    পরিকল্পনা একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মি. মেরী কোন স্তরের ব্যবস্থাপক? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নির্ধারিত সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভবিষ্যতে কী করা হবে, কখন করা হবে, কীভাবে করা হবে এবং কার দ্বারা করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করাকে পরিকল্পনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিকল্পনা একটি অবিরাম ও চক্রাকার প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের পরিকল্পনা শেষ হওয়ার সাথে সাথে পরবর্তী মেয়াদের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা সংশোধন, পরিবর্তন ও নতুন রূপরেখা প্রণয়ন করতে হয় বিধায় এটি কখনোই থেমে থাকে না। তাই পরিকল্পনাকে একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মি. মেরী উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপক।

    ব্যবস্থাপনার যে স্তরে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উদ্দেশ্য, মৌলিক নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তাকে উচ্চস্তরীয় ব্যবস্থাপনা বলে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ স্তরের অন্তর্ভুক্ত।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মেরী পোশাক কারখানার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাজের সাথে জড়িত। সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও সার্বিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত উচ্চস্তরের কর্মকর্তারাই নিয়ে থাকেন। অতএব, দায়িত্ব ও কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির করণীয় হলো পরিকল্পনার সংশোধন ও বাস্তবসম্মত পুনর্বিন্যাস করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৫ সালে কারখানাটি মোট ১১ লক্ষ পিস প্যান্ট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (৩১ মে পর্যন্ত) শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করেও মাত্র ৩ লক্ষ পিস উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। যেখানে কর্মকর্তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না। বাকি ৭ মাসে ৮ লক্ষ পিস উৎপাদন করা বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় প্রায় অসম্ভব। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাটি ছিল অবাস্তব বা অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষী, যা প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্যের বাইরে ছিল।

    এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়সমূহ হলো:
    ১. সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ: প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদন ক্ষমতা, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকদের দক্ষতার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে বাস্তবসম্মত করা।
    ২. কাজের শিফট বা জনবল বৃদ্ধি: যদি লক্ষ্যমাত্রা কোনোভাবেই কমানো সম্ভব না হয়, তবে কারখানায় অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ, ওভারটাইম বৃদ্ধি বা শিফট সংখ্যা বাড়াতে হবে।
    ৩. সাব-কন্ট্রাক্ট বা আউটসোর্সিং: অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে প্রয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিছু পণ্য উৎপাদন করিয়ে নেয়া যেতে পারে।

    পরিশেষে বলা যায়, অবাস্তব পরিকল্পনা চাপিয়ে না দিয়ে পরিস্থিতির আলোকে লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবসম্মত পুনর্বিন্যাস বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান করণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন