বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

8.

(ক) একটি গ্রাম্যমেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে দিনলিপি রচনা করো।অথবা,(খ) 'সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন' শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য একটি ভাষণ প্রস্তুত করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) একটি গ্রাম্যমেলা দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করে দিনলিপি:

১৫ এপ্রিল, ২০২৪
রাত ১০:৩০ মিনিট
কুমিল্লা।

আজকের দিনটি ছিল চমৎকার এক অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পাশের গ্রাম বৈলতলীর বটমূল প্রাঙ্গণে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। বিকেলে বন্ধুদের সাথে মেলা প্রাঙ্গণে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি এক উৎসবমুখর পরিবেশ—চারিদিকে গ্রামীণ মানুষের বাঁধভাঙা আনন্দ আর কোলাহল। মেলায় সারি সারি সাজানো ছিল মাটির তৈরি নানা তৈজসপত্র, খেলনা, শখের হাঁড়ি এবং বাঁশের তৈরি বাঁশি ও কুটিরশিল্পের সামগ্রী। এক কোণে বড়দের ও শিশুদের নাগরদোলা চরকির মতো ঘুরছিল। বাতাসে ভেসে আসছিল জিলাপি, পাঁপড় ভাজা ও মুড়কি-বাতাসার মিষ্টি সুবাস। লোকজ সংস্কৃতির এমন প্রাণবন্ত রূপ আমি বহুদিন দেখিনি। শহরের যান্ত্রিক জীবনে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের মিলনমেলা মেলাই ভার। গ্রামীণ ঐতিহ্যের সহজ-সরল রূপটি আমার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিল। আজকের দিনটি স্মৃতির পাতায় চিরকাল অম্লান থাকবে।

অথবা,

(খ) 'সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন' শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য ভাষণ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, আমন্ত্রিত সুধীবৃন্দ এবং উপস্থিত প্রিয় শ্রোতামণ্ডলী,
সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সালাম, আসসালামু আলাইকুম।

আজকের এই বিশেষ সেমিনারের বিষয়—'সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন'। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবিক মর্যাদার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। কোনো ধর্ম বা আদর্শই কখনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা কিংবা সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করাকে সমর্থন করে না। ধর্ম সবসময়ই শান্তির বার্তা দেয়, কিন্তু উগ্রবাদীরা ধর্মকে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করে বিপথগামী তরুণদের সহিংসতার পথে ঠেলে দিচ্ছে।

সুধীবৃন্দ,
একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি হলো সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। যেখানে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দেয়, সেখানে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সভ্যতার চাকা থমকে যায়। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপ্রিয় দেশ। আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল সবার সমান অধিকার ও সম্প্রীতির মূল্যবোধকে ভিত্তি করে। তাই আমাদের মাতৃভূমিতে কোনো ধরনের অন্ধ ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা জঙ্গিবাদের স্থান হতে পারে না।

এই অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটন করতে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারি। তরুণ প্রজন্ম যাতে বিপথগামী না হয়, সেজন্য পরিবার থেকেই মানবিক মূল্যবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে হবে। আমাদের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে সঠিক চেতনা তুলে ধরার।

আসুন, আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলি দুর্বার সামাজিক প্রতিরোধ। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

ধন্যবাদ সবাইকে। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন