অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দাও:

- ক)(1)
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কী?
- খ)(2)
"প্রাইমারি শেয়ারে ঝুঁকি কম"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ব্যাংক হার বৃদ্ধি ও খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অঞ্চলের মধ্যে যে দ্রব্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়, তাকে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো কোম্পানি যখন প্রথমবার সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার ইস্যু করে, তাকে প্রাইমারি শেয়ার বা আইপিও (IPO) বলে।
প্রাইমারি শেয়ারে ঝুঁকি কম থাকে কারণ এই শেয়ারগুলো সাধারণত অভিহিত মূল্য (Face Value) বা নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামে সরাসরি কোম্পানি থেকে কেনা হয়। সেকেন্ডারি বাজারের মতো এতে প্রতিদিনের বাজারমূল্যের তীব্র ওঠানামার বা আকস্মিক দরপতনের সরাসরি প্রভাব তৎক্ষণাৎ থাকে না। এছাড়া অনুমোদনকারী সংস্থা (যেমন বিএসইসি) কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ভিত্তি যাচাই-বাছাই করার পরই আইপিও অনুমোদন দেয়, যার ফলে বিনিয়োগকৃত অর্থ হারানোর ঝুঁকি সেকেন্ডারি শেয়ারের তুলনায় অনেক কম থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে 'চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' (Demand-Pull Inflation) নির্দেশ করা হয়েছে।
অর্থনীতিতে যখন পূর্ণনিয়োগ বা নির্দিষ্ট যোগান অবস্থায় সামগ্রিক যোগান স্থির থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্যের স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে মোট উৎপাদন (Y) এবং লম্ব অক্ষে দামস্তর (P) নির্দেশ করা হয়েছে। চিত্রে AS হলো উল্লম্ব সামগ্রিক যোগান রেখা, যা অর্থনীতিতে পূর্ণনিয়োগ উৎপাদনের স্তর -কে নির্দেশ করে। অর্থাৎ এই স্তরে উৎপাদন বা সামগ্রিক যোগান আর বাড়ানো সম্ভব নয়। প্রাথমিক অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা রেখা এবং যোগান রেখা পরস্পর 'a' বিন্দুতে ভারসাম্য লাভ করায় প্রাথমিক দামস্তর নির্ধারিত হয় । পরবর্তীতে কোনো কারণে সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে থেকে ডানদিকে স্থানান্তরিত হয়ে হলে নতুন ভারসাম্য বিন্দু হয় 'b'। কিন্তু সামগ্রিক যোগান -এ স্থির থাকায় বর্ধিত চাহিদার চাপে দামস্তর থেকে বেড়ে হয়। সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলেই যেহেতু দামস্তরের এই উর্ধ্বগতি ঘটেছে, তাই এটি নির্দ্বিধায় চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, ব্যাংক হার বৃদ্ধি ও খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্দীপকে নির্দেশিত চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত মুদ্রাস্ফীতিটি হলো চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি, যা মূলত অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ এবং সামগ্রিক চাহিদা () বৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির আওতায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে এই পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদের হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, তাকে ব্যাংক হার বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ গ্রহণের ব্যয় বাড়ে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের গ্রাহকদের জন্য ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ঋণ গ্রহণ নিরুৎসাহিত হয়, ফলে সমাজে বিনিয়োগ ব্যয় ও ভোগ ব্যয় হ্রাস পায়। এতে সামগ্রিক চাহিদা () কমে আসে।
২. খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়: খোলা বাজারে বিল বা সরকারি ঋণপত্র বিক্রয় করলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সাধারণ জনগণ তা ক্রয় করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য এবং জনগণের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চলে আসে। বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ কমে গেলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে সামগ্রিক চাহিদা রেখা থেকে পুনরায় বামে -এর দিকে ফিরে আসবে। চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে দামস্তর থেকে হ্রাস পেয়ে পুনরায় -এ নেমে আসবে।
সুতরাং, ব্যাংক হার বৃদ্ধি ও খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থের যোগান ও ঋণ সংকুচিত করে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকরভাবে এই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও