কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
সাবিত একজন আখ চাষি। তিনি এ বছর পূর্বে চাষকৃত আখের জমিতে গোড়া থেকে পুনরায় আখ চাষ করলেন। কিছুদিন পর তিনি লক্ষ করলেন কিছু গাছের পাতার শিরা বরাবর লম্বা দাগ দেখা যাচ্ছে। তিনি আক্রান্ত আখের কাণ্ড চিরে দেখলেন, লম্বা দাগের মাঝে সাদা ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। চিন্তিত হয়ে সাবিত কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে রোগটি দমনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন এবং সফল হলেন।
- ক)(1)
জিনিং কী?
- খ)(2)
কিউরিং করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাবিতের আখ চাষ পদ্ধতিটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রোগটি দমনে কৃষিকর্মকর্তার পরামর্শে সাবিত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তুলা বীজ থেকে আঁশ বা তুলা আলাদা করার প্রক্রিয়াকে জিনিং (Ginning) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তোষা পাট, তামাক বা পেঁয়াজ-রসুনের গুণগত মান সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কিউরিং করা হয়। তামাকের ক্ষেত্রে পাতার সবুজ ভাব দূর করে নির্দিষ্ট আর্দ্রতা বজায় রাখা, স্বাভাবিক রং ও ঘ্রাণ আনা এবং গাঁজন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রিত তাপ ও আর্দ্রতায় কিউরিং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি ফসলের বাণিজ্যিক মান ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাবিতের আখ চাষ পদ্ধতিটি হলো 'মুড়ি আখ' বা 'রেটুন' (Ratoon) চাষ পদ্ধতি।
মুড়ি আখ চাষ পদ্ধতি হলো—পূর্বে রোপণকৃত আখের ফসল কাটার পর গোড়া থেকে নতুন যে কুশি বা চারা বের হয়, তা পরিচর্যা করে পুনরায় ফসল উৎপাদন করা। এ পদ্ধতিতে পুনরায় নতুন করে বীজ বা জমি প্রস্তুতের প্রয়োজন হয় না। আখ কাটার সময় মাটির সমান করে বা সামান্য নিচ দিয়ে ধারালো কাঁচি দিয়ে কাটতে হয়। এরপর জমিতে প্রয়োজনীয় নিড়ানি দেওয়া, সুষম সার ও পানি প্রয়োগের মাধ্যমে যত্ন নিলে মুড়ি থেকে নতুন আখের গাছ তৈরি হয়। এ পদ্ধতিতে খরচ ও সময় উভয়ই কম লাগে, তবে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত লক্ষণগুলো (পাতার শিরায় লাল দাগ, কাণ্ড চিরে ভেতরের লাল অংশে আড়াআড়ি সাদা ছোপ) আখের মারাত্মক 'লাল পচা রোগ' বা রেড রট (Red rot)-এর লক্ষণ, যা Colletotrichum falcatum নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়। মুড়ি আখ চাষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।
রোগটি দমনে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে সাবিত নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন:
১. আক্রান্ত গাছ অপসারণ: জমিতে রোগাক্রান্ত আখের গাছ দেখা মাত্রই তা শিকড়সহ তুলে ফেলে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে হয়, যাতে সংলগ্ন গাছগুলোতে সংক্রমণ না ছড়ায়।
২. রোগমুক্ত বীজ ও জাত ব্যবহার: পরবর্তী চাষের জন্য রোগ প্রতিরোধী অনুমোদিত আখের জাত (যেমন—ঈশ্বরদী জাতের আখ) ব্যবহার করা।
৩. মুড়ি চাষ পরিহার: লাল পচা রোগ দেখা দিলে সেই জমিতে পুনরায় মুড়ি আখ চাষ না করে ফসল চক্র (Crop rotation) অনুসরণ করা।
৪. বীজ শোধন ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ: বীজ শোধনের জন্য অটোস্টিন বা কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দ্রবণ ব্যবহার করা এবং জমিতে আক্রমণ ঠেকাতে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করা।
৫. নিষ্কাশন ব্যবস্থা: জমিতে যাতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে সে জন্য সুনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা।এসব সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনার ফলেই সাবিত রোগ নিয়ন্ত্রণে এনে সফল হতে পেরেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও