সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসে উল্লিখিত সুদীপ্ত শাহীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতের ভয়াবহতায় আতঙ্কগ্রস্ত একজন মানুষ। তাঁর যাপিত জীবন আতঙ্ক আর ভয়ের মধ্য দিয়ে কাটে। কারণ সেই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকার নিরস্ত্র মানুষের ওপর নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ এমনকি মসজিদের মুয়াজ্জিন পর্যন্ত রেহাই পায়নি। সুদীপ্ত শাহীন এর মাঝে বেঁচে আছেন এটা বিশ্বাস করতে তাঁর বিস্ময় লাগে। ২৬ মার্চের সূর্যোদয় দেখবার কথা তিনি ভাবতেও পারেন না।
- ক)(1)
‘রেইনকোট’ গল্পে পিয়নের নাম কী?
- খ)(2)
“দেশে একটা কলেজে শহিদ মিনার আর অক্ষত নাই।”-কেন? আলোচনা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সুদীপ্ত শাহীন ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? কীভাবে? বিচার কর।
- ঘ)(4)
‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব উদ্দীপকে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে।”-মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘রেইনকোট’ গল্পে পিয়নের নাম ইসহাক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীককে ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে সব কলেজের শহিদ মিনার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।
শহিদ মিনার বাঙালির ভাষা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং প্রতিরোধের প্রতীক। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালির স্বাধিকারের এই চেতনাকে চিরতরে মুছে দেওয়ার জন্য সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শহিদ মিনার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। কলেজের প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদও মিলিটারিদের তোষণ করতে গিয়ে ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সুদীপ্ত শাহীন ‘রেইনকোট’ গল্পের প্রধান চরিত্র কলেজের প্রভাষক নুরুল হুদার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সার্বক্ষণিক মৃত্যুভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন। পাকিস্তানিদের নৃশংসতা এবং ক্যাম্পাসে বা রাস্তায় মিলিটারিদের হাতে ধরা পড়ার ভীতি তাঁর সমস্ত চেতনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। এমনকি মিলিটারি ক্যাম্প থেকে বা কলেজের তলব এলে তিনি নিজেকে মৃত ভেবে শিউরে উঠতেন।
উদ্দীপকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীনও ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের বিভীষিকা দেখে তীব্র আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুভয়ে কাটান এবং পরের দিন বেঁচে থাকবেন কি না তা বিশ্বাস করতে পারেন না। সুদীপ্ত শাহীনের এই ভয়, উদ্বেগ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতায় স্তম্ভিত হওয়া নুরুল হুদার যুদ্ধকালীন মানসিক অবস্থারই প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব উদ্দীপকে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে”—মন্তব্যটি আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণরূপে যথার্থ নয়।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতায় একজন সাধারণ অধ্যাপকের মনে যে গভীর আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব সৃষ্টি হয়েছিল, কেবল সেই দিকটিই ফুটে উঠেছে। সুদীপ্ত শাহীনের মাঝে যুদ্ধকালীন ভয় ও অনিশ্চয়তাই প্রধান।
অন্যদিকে, ‘রেইনকোট’ গল্পে কেবল মুক্তিযুদ্ধের ভয় ও আতঙ্কই মূল বিষয় নয়; বরং গল্পের মূলভাব হলো ভয়কে জয় করে সাধারণ ভীতু মানুষের ভেতরে দেশপ্রেম ও মুক্তিযোদ্ধা চেতনার রূপান্তর। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পর সাধারণ শিক্ষক নুরুল হুদার ভেতরের ভীরুতা দূর হয়ে যায়। পাকিস্তানি মিলিটারির অমানুষিক নির্যাতনের মুখেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা প্রকাশ করেননি, বরং চরম সাহসের সাথে নিজেকে তাদেরই একজন ভাবতে শুরু করেন।
অতএব, উদ্দীপকে ‘রেইনকোট’ গল্পের প্রাথমিক পরিবেশ অর্থাৎ যুদ্ধকালীন আতঙ্ক প্রতিফলিত হলেও, গল্পের মূল আত্মিক নির্যাস—যা হলো চেতনার উত্তরণ, আত্মবলিদান ও অদম্য দেশপ্রেম—তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই মূলভাব উদ্দীপকে আংশিক প্রতিফলিত হলেও পুরোপুরি নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও