রসায়ন • BUET • বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০১২-২০১৩

রসায়ন প্রশ্ন

3.

(a) জৈব যৌগে নাইট্রোজেন ও সালফারের একত্রে উপস্থিতি একই পরীক্ষায় সনাক্তকরণের জন্য সাধারণত: কোন লবণের জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়? সনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটির মজুদ দ্রবণ কিভাবে তৈরি করা হয়? সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়াটির রাসায়নিক সমীকরণ লিখ।(b) আলোক সক্রিয় নয় এমন একটি অ্যামাইনো এসিডের নাম ও গাঠনিক সংকেত লিখ । ইহা আলোক সক্রিয়  না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(a)
১. ব্যবহৃত লবণের জলীয় দ্রবণ:
জৈব যৌগে নাইট্রোজেন ও সালফারের একত্রে উপস্থিতি সনাক্তকরণে সাধারণত ফেরিক ক্লোরাইড (FeCl3FeCl_3)-এর জলীয় দ্রবণ ব্যবহার করা হয়।

২. মজুদ দ্রবণ (ল্যাসাইন দ্রবণ/সোডিয়াম নির্যাস) তৈরির পদ্ধতি:
একটি ছোট শুষ্ক ইগনিশন নলে এক টুকরা শুষ্ক ধাতব সোডিয়াম নিয়ে মৃদু তাপে গলানো হয়। এরপর এতে সামান্য পরিমাণ জৈব যৌগ যোগ করে প্রথমে মৃদু তাপ এবং পরে তীব্র তাপে রক্তিম তপ্ত করা হয়। তপ্ত নলটিকে একটি পোরসেলিন বেসিনে রাখা ১০–১৫ mL পাতিত পানির মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়। মিশ্রণটিকে ভালোভাবে ফুটিয়ে ফিল্টার কাগজের সাহায্যে ছেঁকে যে বর্ণহীন পরিশ্রুত পাওয়া যায়, তাই ল্যাসাইন দ্রবণ বা মজুদ দ্রবণ (Sodium fusion extract)।

৩. সংশ্লিষ্ট বিক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ:
জৈব যৌগে নাইট্রোজেন ও সালফার উভয়ই উপস্থিত থাকলে সোডিয়াম গলনকালে সোডিয়াম থায়োসায়ানেট উৎপন্ন হয়:
Na+C+N+S→ΔNaSCNNa + C + N + S \xrightarrow{\Delta} NaSCN

এরপর ল্যাসাইন দ্রবণকে লঘু HClHCl দ্বারা অম্লীয় করে কয়েক ফোঁটা ফেরিক ক্লোরাইড (FeCl3FeCl_3) দ্রবণ যোগ করলে রক্তের মতো গাঢ় লাল বর্ণ সৃষ্টি হয়:
3NaSCN+FeCl3→Fe(SCN)3(রক্তবর্ণ দ্রবণ)+3NaCl3NaSCN + FeCl_3 \rightarrow \underset{\text{(রক্তবর্ণ দ্রবণ)}}{Fe(SCN)_3} + 3NaCl
[অথবা জটিল আয়ন হিসেবে: Fe3++SCN−→[Fe(SCN)]2+Fe^{3+} + SCN^- \rightarrow [Fe(SCN)]^{2+}]


(b)
১. আলোক অসক্রিয় অ্যামাইনো এসিডের নাম ও সংকেত:

  • নাম: গ্লাইসিন (Glycine)
  • গাঠনিক সংকেত:
    H∣H2N−C−COOH∣H\begin{matrix} & H & \\ & | & \\ H_2N - & C & - COOH \\ & | & \\ & H & \end{matrix}
    (বা H2N−CH2−COOHH_2N-CH_2-COOH)

২. আলোক অসক্রিয় হওয়ার কারণ:
কোনো জৈব যৌগের আলোক সক্রিয় হওয়ার প্রধান শর্ত হলো অণুতে অন্তত একটি কাইরাল কার্বন (অপ্রতিসম কার্বন কেন্দ্র) বিদ্যমান থাকা, যার চারটি বন্ধন চারটি ভিন্ন মূলক বা পরমাণুর সাথে যুক্ত থাকে। কিন্তু গ্লাইসিনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কার্বন (alpha\\alpha-কার্বন)-এর সাথে দুটি একই ধরনের হাইড্রোজেন পরমাণু (−H-H) যুক্ত থাকায় এতে কোনো অপ্রতিসম বা কাইরাল কেন্দ্র নেই। অণুটি প্রতিসম হওয়ায় এটি সমতল সমবর্তিত আলোর তলকে আবর্তন করতে পারে না। ফলে গ্লাইসিন আলোক নিষ্ক্রিয় বা আলোক অসক্রিয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন