‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সন্তোষ শর্মা একজন মহান রাজনীতিবিদ। সমাজের সকল মানুষের কল্যাণ তাঁর স্বপ্ন। তিনি বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি হিন্দু-মুসলিম-সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন।

  1. ক)

    বঙ্গভঙ্গ কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিত্ব বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক শাসনব্যবস্থার সুবিধার অজুহাতে সুবিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠনের প্রশাসনিক পদক্ষেপকে বঙ্গভঙ্গ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বৈতশাসন হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে চালু হওয়া এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রাদেশিক সরকারের বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) ও 'সংরক্ষিত' (Reserved)—এই দুই ভাগে ভাগ করে দুই ভিন্ন কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছিল। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো প্রাদেশিক মন্ত্রীদের দ্বারা এবং সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নরের নির্বাহী পরিষদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত মহান নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের (সি. আর. দাশ) সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের সন্তোষ শর্মা যেমন একজন মহান রাজনীতিবিদ যিনি সমাজের কল্যাণ কামনা করেন এবং উন্নয়নের জন্য হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন, ঠিক তেমনই ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐক্য ছাড়া ভারতের প্রকৃত মুক্তি বা স্বরাজ অর্জন সম্ভব নয়। তিনি আজীবন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কাজ করে গেছেন। সুতরাং তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের সাথে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ১৯২৩ সালের ঐতিহাসিক 'বেঙ্গল প্যাক্ট' (বাংলা চুক্তি) সম্পাদনে প্রধান ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন—উক্তিটি বিশ্লেষণযোগ্য।

    ১৯২৩ সালে চিত্তরঞ্জন দাশ উপলব্ধি করেন যে, বাংলায় মুসলমানদের বাদ দিয়ে কোনো জাতীয় ঐক্য বা স্বাধীনতা আন্দোলন সফল হতে পারে না। তাই তিনি হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমতা ও বিশ্বাস সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেন, যা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।

    এই চুক্তির মাধ্যমে তিনি আইনসভায় মুসলমানদের জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব এবং সরকারি চাকুরিতে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে কোটা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকারও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও গোঁড়া হিন্দু নেতাদের একাংশ এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিল, তবুও চিত্তরঞ্জন দাশ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই চুক্তি অকার্যকর হয়ে পড়লেও তা ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দলিল।

    অতএব, বাংলায় হিন্দু-মুসলিম সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের বেঙ্গল প্যাক্ট সম্পাদন এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন