অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
করিম পাঁচ একর জমিতে প্রথম বছর দশ হাজার টাকার শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে ২০০ কেজি মাল্টা উৎপাদন করেন। লাভজনক হওয়ায় পরবর্তী তিন বছরে একই পরিমাণ জমিতে যথাক্রমে ২০ হাজার টাকা, ৩০ হাজার টাকা ও ৪০ হাজার টাকার শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে যথাক্রমে ৩৫০ কেজি, ৪৫০ কেজি এবং ৫০০ কেজি মাল্টা, উৎপাদন করেন। এতে তার পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসে।
- ক)(1)
উৎপাদন কী?
- খ)(2)
মোট স্থির ব্যয় (TFC) রেখা কেন ভূমি অক্ষের সমান্তরাল হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে প্রান্তিক উৎপাদন সূচি তৈরি করো।
- ঘ)(4)
. উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে উৎপাদন বিধিটি ব্যাখ্যাপূর্বক কৃষিক্ষেত্রে এর প্রয়োগযোগ্যতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতিপ্রদত্ত বস্তুর সাথে শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে নতুন কোনো উপযোগ সৃষ্টি করাকে অর্থনীতিতে উৎপাদন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বল্পকালে উৎপাদনের পরিমাণ শূন্য হোক বা বৃদ্ধি পাক, যেসব ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তাকে মোট স্থির ব্যয় (Total Fixed Cost বা TFC) বলে। যেমন- জমি বা কারখানার ভাড়া, স্থায়ী কর্মচারীর বেতন ইত্যাদি। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে বা কমলেও মোট স্থির ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে। ফলে চিত্রে উৎপাদনের পরিমাণ নির্দেশক ভূমি অক্ষের সাপেক্ষে মোট স্থির ব্যয় রেখাটি সর্বদা একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় অনুভূমিক থাকে। এজন্য মোট স্থির ব্যয় (TFC) রেখা ভূমি অক্ষের সমান্তরাল হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে শ্রম ও মূলধন নিয়োগের বিপরীতে মোট উৎপাদন (TP) এবং প্রান্তিক উৎপাদন (MP) নির্ণয়ের সূচি নিচে দেওয়া হলো:
[এখানে প্রতি বছর শ্রম ও মূলধনের অতিরিক্ত একক হলো ১০ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত উৎপাদনের পরিমাণ হলো প্রান্তিক উৎপাদন]
বছর | শ্রম ও মূলধন | মোট উৎপাদন (TP) | প্রান্তিক উৎপাদন (MP)
১ম বছর | ১০ হাজার টাকা | ২০০ কেজি | ২০০ কেজি
২য় বছর | ২০ হাজার টাকা | ৩৫০ কেজি | (৩৫০ - ২০০) = ১৫০ কেজি
৩য় বছর | ৩০ হাজার টাকা | ৪৫০ কেজি | (৪৫০ - ৩৫০) = ১০০ কেজি
৪র্থ বছর | ৪০ হাজার টাকা | ৫০০ কেজি | (৫০০ - ৪৫০) = ৫০ কেজিসূচি থেকে দেখা যায় যে, শ্রম ও মূলধন সমহারে (১০ হাজার টাকা করে) বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ২০০ কেজি, ১৫০ কেজি, ১০০ কেজি ও ৫০ কেজি হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্যের আলোকে কার্যকর উৎপাদন বিধিটি হলো 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি' (Law of Diminishing Marginal Returns)।
বিধিটির ব্যাখ্যা:
অন্যান্য উপাদান (যেমন জমির পরিমাণ ও প্রযুক্তি) অপরিবর্তিত রেখে কোনো নির্দিষ্ট জমিতে পরিবর্তনশীল উপাদান (শ্রম ও মূলধন) ক্রমাগত বৃদ্ধি করতে থাকলে মোট উৎপাদন বাড়লেও প্রান্তিক উৎপাদন যদি ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে, তবে তাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে। উদ্দীপকে করিম ৫ একর নির্দিষ্ট জমিতে প্রতি বছর সমপরিমাণে (১০ হাজার টাকা করে) অতিরিক্ত শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করেন, কিন্তু তার প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমান্বয়ে ২০০ কেজি থেকে কমে যথাক্রমে ১৫০ কেজি, ১০০ কেজি এবং ৫০ কেজি হয়। এটি স্পষ্টভাবে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিকে নির্দেশ করে।কৃষিক্ষেত্রে এর প্রয়োগযোগ্যতা:
অর্থনীতিতে এ বিধিটি কৃষিক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ও স্পষ্টভাবে কার্যকর হয়, যার কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রকৃতির ওপর নির্ভরতা: কৃষিকাজ প্রত্যক্ষভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক উর্বরতার একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে, যা অতিক্রম করলে উৎপাদন আর আগের হারে বাড়ে না।
২. জমির যোগানের সীমাবদ্ধতা: জমির যোগান সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক বা নির্দিষ্ট। একই জমিতে বারবার চাষাবাদ করলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি হ্রাস পায়।
৩. মূলধন ও প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অবাধ ব্যবহার সবসময় সম্ভব হয় না। নির্দিষ্ট জমিতে শ্রম ও বীজ বাড়ালেও একটি স্তরের পর অতিরিক্ত নিয়োগ থেকে আনুপাতিক উৎপাদন পাওয়া যায় না।সুতরাং, উদ্দীপকের করিমের মাল্টা চাষের ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিটি কার্যকর হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে কৃষিক্ষেত্রে এই বিধিটির প্রয়োগযোগ্যতা অত্যন্ত ব্যাপক ও অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও