বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ধন-রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই, সুখ পর-উপকারে, তারি মাঝে খোঁজ ভাই। 'আমিত্ব'কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি, পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি। নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা, তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি।

  1. ক)

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে 'তপোবন প্রেমিক' কাকে বলা হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    "সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস"- বর্ণনা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক এবং 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের সাদৃশ্য বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি'- এ উক্তিতে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'তপোবন প্রেমিক' বলা হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটা বড় জিনিস" বলতে লেখক বুঝিয়েছেন, মানুষের সাধনা বা কর্মপ্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সার্থকতা ও আত্মতৃপ্তি লাভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    গাছ যেমন নীরবে বেড়ে ওঠে এবং ফুল ও ফল ফুটিয়ে নিজের জীবনের বিকাশ ঘটায়, মানুষের জীবনও তেমনি সাধনার মধ্য দিয়ে সার্থক হতে পারে। সাধনা যদি কেবল শুষ্ক ত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তাতে যদি অন্তরের বিকাশ বা প্রাপ্তি না ঘটে, তবে তা সম্পূর্ণতা পায় না। প্রাপ্তি মানুষকে আনন্দের অনুভূতি দেয় এবং জীবনের উদ্দেশ্যকে পূর্ণ করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক এবং 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মধ্যে পরোপকার ও স্বার্থত্যাগের মাধ্যমে প্রকৃত সুখ ও সার্থকতা লাভের দিকটিতে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বৃক্ষের আত্মত্যাগ, নিরবচ্ছিন্ন সেবা ও পরোপকারী মনোভাবের মধ্য দিয়ে জীবনের প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। বৃক্ষ কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে মানুষের জন্য ছায়া, ফুল ও ফল বিলিয়ে দেয়। তার নীরব বিকাশ ও নিঃস্বার্থ আত্মদানই তার জীবনের সৌন্দর্য ও সার্থকতা।

    উদ্দীপকেও পার্থিব ধন-রত্ন ও বৈষয়িক সুখের পেছনে না ছুটে 'আমিত্ব' ও স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পরের মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরের জন্য ভাবলে এবং পরোপকার করলেই আত্মার গভীরে প্রকৃত সুখ লাভ করা যায়। বৃক্ষের এই পরোপকারী জীবনাদর্শের সাথেই উদ্দীপকের ভাবগত সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি'- এ উক্তিতে 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের মূলভাব যথার্থভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে, কারণ প্রবন্ধটিতে স্বার্থহীন পরোপকার ও নিঃস্বার্থ সেবাকেই জীবনের চরম সার্থকতা হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে।

    'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বৃক্ষকে মানবজীবনের এক আদর্শ প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বৃক্ষ যেভাবে নিজে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে অন্যকে ছায়া দেয় এবং নিজের অর্জিত ফল বিলিয়ে দেয়, মানুষের জীবনও তেমনি হওয়া উচিত। সেখানে আত্মকেন্দ্রিকতা ও অহংকার পরিহার করে প্রেমের দ্বারা, ত্যাগের দ্বারা ও নিঃস্বার্থ সেবার দ্বারা জীবনকে বিকশিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পার্থিব ধন-দৌলতে কোনো প্রকৃত সুখ নেই। 'আমিত্ব' বা অহমিকা বলি দিয়ে মানুষ যখন নিরবচ্ছিন্নভাবে পরের কল্যাণে ব্রতী হয়, তখনই সে আত্মিক শান্তি লাভ করে।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের মূল শিক্ষা হলো অহংকার ও স্বার্থ ত্যাগ করে অপরের মঙ্গলে আত্মনিয়োগ করা। 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধেও বৃক্ষের মাধ্যমে মানবজাতিকে স্বার্থপরতা ভুলে পরোপকার ও আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন