ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

মহান আল্লাহ একটি জাতিকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাতে চাইলেন,কিন্তু ফেরেশতারা আপত্তি জানালেন। অতঃপর আল্লাহ সেই জাতিকে সৃষ্টি করলেন এবং সবকিছু শিক্ষা দিলেন। অতঃপর ফেরেশতাদেরকে আদেশ দিলেন সেই প্রতিনিধিকে সম্মানসূচক সিজদা করার জন্য। ইবলিশ ব্যতীত সবাই সিজদা করলেন।

  1. ক)

    ملائكة (মালাইকা) শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'তোমরা একসাথে ওখান থেকে নেমে যাও'- ব্যাখ্যা লেখ।

    (2)
  3. গ)

    فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمْت  (অতঃপর আদম (আ.) তার প্রভুর নিকট থেকে কিছু বাক্য শিখলেন)-এর প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সে অমান্য করল এবং অহংকার করল'- আল-কুরআনের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মালাইকা' (ملائكة) শব্দের অর্থ ফেরেশতাগণ। এটি 'মালাক' (ملك) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ দূত বা বার্তাবাহক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত বাক্যটি সুরা আল-বাকারার ৩৬ ও ৩৮ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ। শয়তানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার মাধ্যমে হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করার পর আল্লাহ তাঁদের বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, তাঁদের উভয়ের এবং ইবলিসের বাসস্থান জান্নাত থেকে পরিবর্তন করে পৃথিবীতে নির্ধারণ করা হলো, যেখানে মানবজাতি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস করবে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও পরীক্ষা বিদ্যমান থাকবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার পর হজরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) নিজেদের ভুলের কারণে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও লজ্জিত হন। তাঁরা বুঝতে পারেন যে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে তাঁরা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে ফেলেছেন। তখন মহান আল্লাহ অপার অনুগ্রহবশত হজরত আদম (আ.)-কে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য কিছু বাক্য বা দোয়ার শিক্ষা দেন। সেই বাক্যগুলো ছিল—'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি। যদি আপনি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব' (সুরা আল-আ'রাফ: ২৩)। এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে আন্তরিকভাবে তওবা করার ফলে আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করে দেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত কথাটি শয়তান বা ইবলিসকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, যা সুরা আল-বাকারার ৩৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে—'ফা আবা ওয়াস তাকবারা ওয়া কানা মিনাল কাফিরীন' (সে অমান্য করল এবং অহংকার করল, আর কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল)।

    মহান আল্লাহ যখন প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে সমস্ত বস্তুর নাম ও জ্ঞান শিক্ষা দিলেন এবং ফেরেশতাদের চেয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করলেন, তখন তিনি ফেরেশতাকুলকে আদম (আ.)-কে সম্মানসূচক সিজদা করার আদেশ দেন। সকল ফেরেশতা আল্লাহর এই আদেশ অবনত মস্তকে পালন করলেও ইবলিস তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

    ইবলিস যুক্তি দিয়েছিল যে সে আগুনের তৈরি, আর আদম মাটির তৈরি; সুতরাং সে কোনোভাবেই মাটির মানুষকে সিজদা করতে পারে না। এই অহংকার এবং আল্লাহর প্রত্যক্ষ আদেশ লঙ্ঘনের মাধ্যমে সে চরম অবাধ্যতা প্রকাশ করে। পবিত্র কুরআনে অহংকারকে সকল পাপের মূল ও ধ্বংসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইবলিসের এই ঔদ্ধত্যের কারণে সে আল্লাহর রহমত থেকে চিরতরে বিতাড়িত ও অভিশপ্ত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন