সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন প্রণয়নের পর হতে ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় এবং এ আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। উক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে ঊনবিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধে একটি কমিশন গঠন করে। উক্ত কমিশন দীর্ঘ দুই বছর পর্যবেক্ষণ করে ছয়টি সুপারিশ পেশ করেন। রয়েল কমিশন উক্ত সুপারিশমালার ভিত্তিতে একটি আইন প্রণয়ন করেন। এই আইনটি ছিল ইংল্যান্ডের ইতিহাসে Framework of Repression বা দমননীতির কাঠামোরূপ।

  1. ক)

    Alms House কী?

    (1)
  2. খ)

    প্যারিশ দ্বারা কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের কোন দরিদ্র আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? উক্ত আইনের সুপারিশগুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দমননীতির কাঠামো দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    Alms House বা দরিদ্রাগার হলো এমন একটি আশ্রয়স্থল যেখানে অক্ষম ও নির্ভরশীল নিঃস্ব দরিদ্রদের (যেমন: অন্ধ, বধির, পঙ্গু, বৃদ্ধ) খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার জন্য কায়িক শ্রম ছাড়াই সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্যারিশ (Parish) হলো মধ্যযুগীয় এবং প্রাক-আধুনিক ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ক্ষুদ্রতম প্রশাসনিক ও ধর্মীয় একক। এটি মূলত একটি স্থানীয় গির্জা এবং তার চারপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠত। ইংল্যান্ডের দরিদ্র আইনগুলোর বাস্তবায়ন, দরিদ্র কর (Poor Rate) আদায় এবং দরিদ্রদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত প্যারিশের কর্মকর্তাদের ওপরই ন্যস্ত ছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কার (Poor Law Amendment Act of 1834)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৮৩২ সালে গঠিত রয়েল কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

    ১৮৩২ সালের রয়েল কমিশনের প্রধান সুপারিশগুলো ছিল:
    ১. সক্ষম দরিদ্রদের কর্মাগারে (Workhouse) রেখে কাজ করতে বাধ্য করা এবং তাদের কোনো বহিস্থ সাহায্য (Outdoor Relief) না দেওয়া।
    ২. সক্ষম দরিদ্রদের সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে 'কম সুবিধা তত্ত্ব' (Principle of Less Eligibility) প্রয়োগ করা, যাতে কর্মাগারের সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে নিম্নস্তরের স্বাধীন শ্রমিকের জীবনযাত্রার চেয়েও নিকৃষ্ট হয়।
    ৩. বিভিন্ন প্যারিশকে একত্রিত করে দরিদ্র আইন ইউনিয়ন গঠন করা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত কর্মাগার পরিচালনা করা।
    ৪. দরিদ্র আইন প্রশাসনের নীতি নির্ধারণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (Central Board of Control) গঠন করা।
    ৫. কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান তৈরি এবং নারী, পুরুষ ও শিশুদের পৃথক কর্মাগারে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা।
    ৬. দরিদ্র আইনের সামগ্রিক বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধানের জন্য পরিদর্শক দল নিয়োগ করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'দমননীতির কাঠামো' (Framework of Repression) দ্বারা ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কারের কঠোর, শাস্তিমূলক এবং মানবিকতাবিরোধী রূপকে বোঝানো হয়েছে।

    ১৮৩৪ সালের সংস্কার আইনের মূল লক্ষ্য দরিদ্রদের কল্যাণ সাধন নয়, বরং দরিদ্র করের বোঝা কমানো এবং দরিদ্রদের সাহায্য নেওয়া থেকে বিরত রাখা। এই আইনে 'কম সুবিধা তত্ত্ব' (Principle of Less Eligibility) প্রয়োগ করে কর্মাগারের জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত কষ্টকর ও অপমানজনক করা হয়েছিল, যাতে কোনো ব্যক্তি নিতান্ত নিরুপায় না হলে সাহায্য চাইতে না আসে।

    এছাড়া, সাহায্যপ্রার্থীদের কর্মাগারে প্রবেশকালে পরিবার ভেঙে নারী, পুরুষ ও শিশুদের আলাদা রাখা হতো, তাদের নাগরিক ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতো এবং কয়েদির মতো আচরণ করা হতো। ফলে দরিদ্র ব্যক্তিরা চরম দুর্দশা সত্ত্বেও কর্মাগারে যেতে ভয় পেত। দরিদ্রতাকে একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এই আইনের মাধ্যমে দরিদ্রদের ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক শোষণ ও দমননীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি কোনো সহানুভূতি প্রকাশ না করে বরং এক প্রকার শাস্তিমূলক ও দমনমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছিল বলেই একে 'দমননীতির কাঠামো' বলা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন