জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
M প্রক্রিয়া = বিপাকীয় শক্তির সহায়তায় উদ্ভিদ মাটিস্থ দ্রবণ হতে আয়ন শোষন করে।N প্রক্রিয়া = উদ্ভিদদেহ হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয়।
- ক)(1)
ফটোসিস্টেম কী?
- খ)(2)
অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'M' প্রক্রিয়ায় আধুনিক মতবাদ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পরিবেশের তাপমাত্রায় ও গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষায় 'N' প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েড মেমব্রেনে প্রোটিনের সাথে আলো শোষণকারী রঞ্জক অণুগুলো সজ্জিত হয়ে যে কার্যকরী আলোকীয় একক তৈরি করে, তাকে ফটোসিস্টেম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সবাত শ্বসনের ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া চলাকালীন মুক্ত শক্তির সাহায্যে এডিপি (ADP) ও অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে এটিপি (ATP) তৈরির প্রক্রিয়াকে অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন বলে। এ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ইলেকট্রনের জারণ ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'M' প্রক্রিয়াটি হলো উদ্ভিদের সক্রিয় খনিজ লবণ শোষণ প্রক্রিয়া। সক্রিয় খনিজ লবণ শোষণের আধুনিক ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদটি হলো পিটার মিচেলের কেমিওসমোটিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত 'প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদ' (Proton-Anion Co-transport Theory)।
মতবাদটির মূল পর্যায়সমূহ নিম্নরূপ:
১. প্রোটন পাম্প বা প্রোটন মোটিভ ফোর্স সৃষ্টি: কোষঝিল্লির অন্তঃস্থ পৃষ্ঠ থেকে ATP-ase এনজাইমের কার্যকারিতায় ATP ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এর প্রভাবে প্লাজমামেমব্রেন দিয়ে প্রোটন (H⁺) কোষের ভেতর থেকে বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়। ফলে কোষের ভেতরে এবং বাইরে একটি ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল নতিমাত্রা (H⁺ gradient) বা প্রোটন মোটিভ ফোর্স সৃষ্টি হয়।
২. ক্যাটায়ন শোষণ: ঝিল্লির বাইরে ধনাত্মক আধানের প্রাচুর্য ও ভেতরের ঋণাত্মক আধানের টানে নির্দিষ্ট আয়ন চ্যানেলের মাধ্যমে ক্যাটায়নসমূহ (যেমন: K⁺) সহজেই ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।
৩. অ্যানায়ন শোষণ (কো-ট্রান্সপোর্ট): বাইরে থাকা অতিরিক্ত H⁺ আয়ন যখন প্রোটন মোটিভ ফোর্সের অনুকূলে প্রোটন ক্যারিয়ার দিয়ে পুনরায় ভেতরের দিকে প্রবেশ করতে চায়, তখন তার সাথে অ্যানায়নও (যেমন: Cl⁻ বা NO₃⁻) ভেতরে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়াকে অ্যানায়ন ও প্রোটনের সিমপোর্ট (Symport) বা কো-ট্রান্সপোর্ট বলে।এভাবেই শক্তি ব্যয়ের মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষে খনিজ লবণ শোষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'N' প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন (Transpiration)। পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রক্রিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ:
- প্রস্বেদনের সময় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পীভূত হতে প্রচুর সুপ্ততাপ শোষিত হয়। ফলে উদ্ভিদদেহ শীতল থাকে এবং অতিরিক্ত উত্তাপে প্রোটোপ্লাজম নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
- বিপুল পরিমাণ পানি বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হওয়ায় উদ্ভিদের চারপাশের পরিবেশের তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং আর্দ্রতা বজায় থাকে। বনাঞ্চলের তাপমাত্রা সংলগ্ন এলাকার চেয়ে কম থাকার এটি অন্যতম প্রধান কারণ।
- প্রস্বেদনের ফলে বাষ্পীভূত পানি ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে, যা পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
২. বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা:
- প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মূল পথ হলো পত্ররন্ধ্র (Stomata)। প্রস্বেদনের জন্য পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত থাকলে এর মাধ্যমেই উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসীয় আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়।
- পত্ররন্ধ্র খোলা থাকায় সালোকসংশ্লেষণের জন্য বায়ুমণ্ডল থেকে CO₂ গ্রহণ এবং বায়ুমণ্ডলে উপজাত হিসেবে O₂ নির্গমন সম্ভব হয়। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের স্বাভাবিক ভারসাম্য অটুট থাকে, যা গ্রিনহাউস প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করে।
সুতরাং, পরিবেশের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা বজায় রাখতে এবং জীবনধারণের অপরিহার্য গ্যাসীয় সমতা রক্ষায় প্রস্বেদন প্রক্রিয়া অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও