যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশকল্প-১: সানজিদা আমেরিকার নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এগ্রোটেকনোলজিতে পড়েছে। এখান থেকে গাছের সজীব কোষ থেকে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে একই প্রজাতির অনেক গাছ উৎপাদন করার বিষয়ে সুশৃঙ্খল জ্ঞান অর্জন করেছে।
দৃশ্যকল্প-২: সানজিদা বাংলাদেশে ফিরে এসে বিরল প্রজাতির গাছগুলো থেকে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে প্রচুর গাছ উৎপাদন করছে।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ মিল এর মতে যুক্তিবিদ্যা কী?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২-এর বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তাত্ত্বিক দিক থেকে যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান'- দৃশ্যকল্প-১ এর আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (J. S. Mill)-এর মতে, "যুক্তিবিদ্যা হলো এমন সব মানসিক প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মূল্যায়নে নিয়োজিত; অর্থাৎ যা জানা সত্য থেকে অজানা সত্যে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া এবং এর সহায়ক অন্যান্য মানসিক ক্রিয়াসমূহের বিজ্ঞান।"
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিজ্ঞান কোনো একটি নির্দিষ্ট আদর্শকে সামনে রেখে সত্য-মিথ্যা বা উচিত-অনুচিতের বিচার করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যার উদ্দেশ্য হলো সত্যকে অর্জন করা এবং মিথ্যাকে বর্জন করা। যুক্তিবিদ্যা 'সত্য'-এর আদর্শকে সামনে রেখে বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং সেই নিয়ম অনুসারে বিচার করে যুক্তি সঠিক কি না তা নির্ধারণ করে। তাই যুক্তিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এর বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার স্বরূপের 'ব্যবহারিক' বা 'কলা' (Art) দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
কলা হলো কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ক্ষেত্রে সুনিপুণভাবে প্রয়োগ করার নিয়মাবলি বা কৌশল। দৃশ্যকল্প-২-এ সানজিদা তার অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করে বিরল প্রজাতির গাছ থেকে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে প্রচুর নতুন চারা বা গাছ উৎপাদন করছে। এখানে জ্ঞানকে বাস্তব কর্মে প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট।
যুক্তিবিদ্যা যেমন বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি আলোচনা করে (তাত্ত্বিক বা বিজ্ঞান দিক), তেমনি সেই নিয়মগুলোকে বাস্তব জীবনে সঠিক যুক্তি গঠন ও ভুল যুক্তি বা অনুপপত্তি পরিহারে প্রয়োগ করতে শেখায়। ফলে যুক্তিবিদ্যা একটি কলাবিদ্যাও। সুতরাং, অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মে প্রয়োগ করার কারণে দৃশ্যকল্প-২-এর বিষয়টি যুক্তিবিদ্যার কলা বা ব্যবহারিক দিকের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিজ্ঞান হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল, সুসংবদ্ধ এবং নিয়মভিত্তিক সুনির্দিষ্ট জ্ঞান। বিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রকৃতির অন্তর্নিহিত নিয়মাবলি আবিষ্কার করা এবং তাত্ত্বিক সত্য অনুসন্ধান করা। দৃশ্যকল্প-১-এ সানজিদা এগ্রোটেকনোলজি পড়ে টিস্যু কালচার পদ্ধতির অন্তর্নিহিত নিয়ম ও তাত্ত্বিক বিষয়াদি সম্পর্কে সুশৃঙ্খল জ্ঞান অর্জন করেছে, যা বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক রূপকে নির্দেশ করে।
তাত্ত্বিক দিক থেকে যুক্তিবিদ্যাও একটি বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যা চিন্তার প্রক্রিয়া, অনুমান এবং এর সহায়ক প্রক্রিয়াগুলোর সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করে। যুক্তিবিদ্যা আমাদের জানায় বৈধ যুক্তির নিয়মগুলো কী কী এবং কীভাবে সত্য অনুমানে পৌঁছানো যায়। বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা কোনো বাস্তব প্রয়োগের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র চিন্তার মৌলিক নীতি ও সত্যের স্বরূপ তাত্ত্বিকভাবে অনুসন্ধান করে।
দৃশ্যকল্প-১-এ সানজিদার সুশৃঙ্খল ও নিয়মমাফিক জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়াটি যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, যুক্তিবিদ্যা তাত্ত্বিক দিক থেকে একটি বিজ্ঞান—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও