সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
তাসলিমা একটি বস্তিতে রুম নিয়ে বসবাস করে। পোশাক, তৈরির কারখানায় কাজ করে কোনো রকমে তার দিন চলে যায়। তার ছোট ভাইকেও তার কাছে এনে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু সে রাজি নয়।। মাঠে ফসল ফলানোই সে বেশি পছন্দ করে।
- ক)(1)
গ্রাম কাকে বলে?
- খ)(2)
প্রান্তিক চাষী বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
তাসলিমা যে সমাজে বসবাস করছে সেই সমাজের জীবন- জীবিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তাসলিমার ছোট ভাই যে সমাজে বসবাস করছে সেই সমাজের গতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখায় বসবাসকারী এমন এক মানব সম্প্রদায়কে গ্রাম বলে, যাদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ এবং যাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও নিবিড় সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রান্তিক চাষী বলতে সেইসব কৃষকদের বোঝায় যাদের সামান্য পরিমাণ জমি (সাধারণত ০.৫ একর থেকে ১.৪৯ একর বা প্রায় ৫০ শতাংশ থেকে ১.৫ একর পর্যন্ত) রয়েছে, যা দিয়ে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ সম্পূর্ণভাবে চলে না। জীবনধারণের জন্য তাদের প্রায়শই অন্যের জমিতে বর্গা চাষ বা দিনমজুর হিসেবে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তাসলিমা নগর বা শহুরে সমাজে (বস্তিতে) বসবাস করে। তার জীবন-জীবিকা নগর দরিদ্র শ্রেণির বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।
নগর সমাজে তাসলিমার মতো নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবন অত্যন্ত সংগ্রামমুখর ও প্রতিকূল। পোশাক তৈরির কারখানায় (গার্মেন্টস) অল্প মজুরিতে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। নগর জীবন মূলত শ্রমভিত্তিক ও আনুষ্ঠানিক হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে তা চরম অনিশ্চয়তাপূর্ণ। এখানে স্বল্প আয়ের কারণে অস্বাস্থ্যকর বস্তি এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হয়। উদ্দীপকে তাসলিমার জীবন-জীবিকা তাই আধুনিক নগর সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী শ্রেণির কঠিন বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তাসলিমার ছোট ভাই গ্রামীণ সমাজে বসবাস করছে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অনন্য গতিশীলতা দৃশ্যমান।
ঐতিহ্যগতভাবে গ্রামীণ সমাজ সনাতন কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে সেখানে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি যেমন—উচ্চফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক, পাওয়ার টিলার, সেচ পাম্প ও কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কেবল ধান-পাট উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং মৎস্য চাষ, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্মিং, শাকসবজি ও ফলমূল চাষের মতো বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, পাকা সড়ক ও দ্রুত যোগাযোগের ফলে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য সরাসরি বাজারে গিয়ে নিশ্চিত করতে পারছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন অত্যন্ত সহজ ও গতিশীল হয়েছে। ফলে তাসলিমার ছোট ভাইয়ের প্রতিনিধিত্বকারী গ্রামীণ সমাজ এখন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উৎপাদনমুখী ও গতিশীল অর্থনৈতিক রূপ লাভ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও