যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি কত প্রকার ও কী কী?
- খ)(2)
অন্বয়ী পদ্ধতিকে নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
চিত্র-১ দ্বারা কার্যকারণ সম্পর্কের কোন পদ্ধতিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
চিত্র-১ ও চিত্র-২ দ্বারা কার্যকারণ সম্পর্কে যে দুটি পদ্ধতি প্রকাশ পায় তার মধ্যে কোনটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে পরীক্ষামূলক বা পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি ৫ প্রকার। যথা:
১. অন্বয়ী পদ্ধতি (Method of Agreement)
২. ব্যতিরেকী পদ্ধতি (Method of Difference)
৩. যৌথ অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতি বা অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতি (Joint Method of Agreement and Difference)
৪. সহপরিবর্তন পদ্ধতি (Method of Concomitant Variations)
৫. পরিশেষ পদ্ধতি (Method of Residues) - খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম উপায়ে পরীক্ষণ চালানো সম্ভব হয় না এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক ঘটনাগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়, সেখানে অন্বয়ী পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এ পদ্ধতিতে অনুসন্ধানাধীন ঘটনার একাধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে সাধারণ বা মিলসম্পন্ন একটি মাত্র ঘটনাকে কারণ বা কার্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা সাধারণত নিরীক্ষণের সাহায্যেই পর্যবেক্ষণ করা হয়। যেহেতু এখানে কোনো নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশ বা পরীক্ষণ সৃষ্টি করা হয় না, বরং প্রকৃতিতে উপস্থিত ঘটনাগুলোকে কেবল নিরীক্ষণ করা হয়, তাই অন্বয়ী পদ্ধতিকে মূলত 'নিরীক্ষণের পদ্ধতি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ দ্বারা কার্যকারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ মিলের 'অন্বয়ী পদ্ধতি' (Method of Agreement)-কে নির্দেশ করে।
অন্বয়ী পদ্ধতির মূল সূত্র হলো: যদি আলোচ্য ঘটনার দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তে কেবল একটি বিষয়ে মিল থাকে, তবে যে বিষয়ে দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে সেটিই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য হবে।
উদ্দীপকের চিত্র-১ এ দেখা যায়:
প্রথম দৃষ্টান্তে: পূর্বগ (শফিক, শাহেদ, শিশির) এবং অনুগ (ক, খ, গ)
দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে: পূর্বগ (শফিক, শিশির, শামীম) এবং অনুগ (ক, গ, ঘ)
তৃতীয় দৃষ্টান্তে: পূর্বগ (শফিক, শামীম, শাহেদ) এবং অনুগ (ক, ঘ, ঙ)এখানে পূর্বগগুলোর মধ্যে একমাত্র সাধারণ বা মিলসম্পন্ন উপাদান হলো 'শফিক' এবং অনুগগুলোর মধ্যে একমাত্র সাধারণ উপাদান হলো 'ক'। তাই অন্বয়ী পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে— 'শফিক' হলো 'ক' এর কারণ। অতএব, চিত্র-১ অন্বয়ী পদ্ধতিকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা ও নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ এ প্রকাশ পেয়েছে 'অন্বয়ী পদ্ধতি' এবং চিত্র-২ এ প্রকাশ পেয়েছে 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি'। এ দুটি পদ্ধতির মধ্যে 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি:
১. পরীক্ষণমূলক ভিত্তি: অন্বয়ী পদ্ধতি মূলত নিরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল, যার ফলে এতে বহুকারণবাদ ও অন্যান্য বিভ্রান্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত পরীক্ষণের পদ্ধতি, যা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কার্যকারণ সম্পর্ক নিশ্চিত করে।
২. নিশ্চিত ও অকাট্য সিদ্ধান্ত: ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে মাত্র দুটি দৃষ্টান্ত (একটি সদর্থক ও একটি নঞর্থক) বিবেচনা করা হয়। চিত্র-২ এ দেখা যায়, সদর্থক দৃষ্টান্তে শফিকের উপস্থিতিতে 'ক' ঘটে এবং নঞর্থক দৃষ্টান্তে শফিকের অনুপস্থিতিতে 'ক' ঘটে না। ফলে 'শফিক' যে 'ক'-এর নিশ্চিত কারণ তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়।
৩. বহুকারণবাদের বিপদমুক্ত: অন্বয়ী পদ্ধতিতে বহুকারণবাদের ভ্রান্তিতে পড়ার ঝুঁকি থাকে, কারণ বিভিন্ন দৃষ্টান্তে আপাতদৃষ্টিতে মিল থাকলেও অন্য কোনো অদৃশ্য উপাদান কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে একটিমাত্র উপাদানের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি পরীক্ষা করা হয় বলে এতে বহুকারণবাদের কোনো স্থান নেই।
অতএব, প্রমাণের নিশ্চয়তা, বিজ্ঞানসম্মত কার্যকারিতা ও নির্ভুল সিদ্ধান্তের দিক থেকে অন্বয়ী পদ্ধতির চেয়ে ব্যতিরেকী পদ্ধতি (চিত্র-২) অধিকতর গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও