যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
S.S.C পরীক্ষার পর জামাল এবং কামাল গ্রুপ নির্ধারণ নিয়ে কথা বলছিল। জামাল বলল, “যে গ্রুপে সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায় সে গ্রুপে ভর্তি হব।” উত্তরে কামাল বলল, “জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো যায় তেমন গ্রুপে আমি ভর্তি হব।”
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কী?
- খ)(2)
“যুক্তিবিদ্যা ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান” – বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জামালের বক্তব্যে নির্দেশিত বিষয় পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
যুক্তিবিদ্যা সকল বিজ্ঞানের বিজ্ঞান এবং সকল কলার কলা”- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যবহারিক বিজ্ঞান সত্যকে অর্জন ও মিথ্যাকে বর্জন করার উদ্দেশ্যে সঠিক যুক্তিপদ্ধতি বা চিন্তাপ্রক্রিয়ার নিয়মাবলি প্রণয়ন করে এবং তাদের প্রয়োগবিধি শিক্ষা দেয়, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা হলো একটি বিজ্ঞান যা মনের চিন্তাপ্রক্রিয়াকে ভাষায় প্রকাশের মাধ্যমে অধ্যয়ন করে। চিন্তা একটি অভ্যন্তরীণ ও মানসিক প্রক্রিয়া, যা অনুমান, ধারণা, বিচার ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু এই চিন্তাকে অপরের কাছে প্রকাশ করতে হলে ভাষার প্রয়োজন হয়। যুক্তিবিদ্যার মূল উদ্দেশ্য হলো বৈধ যুক্তি ও অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা। যেহেতু যুক্তির বাহন হলো ভাষা, তাই অভ্যন্তরীণ চিন্তা যখন ভাষায় প্রকাশ পায়, কেবল তখনই তা যুক্তিবিদ্যার আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়। একারণেই যুক্তিবিদ হোয়েটলি বলেছেন, “যুক্তিবিদ্যা ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান।”
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জামালের বক্তব্যে যুক্তিবিদ্যার 'বিজ্ঞান' রূপটি নির্দেশিত হয়েছে।
বিজ্ঞান হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে সুশৃঙ্খল, সুসংবদ্ধ ও সুনিশ্চিত জ্ঞান। বিজ্ঞান কোনো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকৃতির সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও ব্যাখ্যা করে। জামালের বক্তব্য—"যে গ্রুপে সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায় সে গ্রুপে ভর্তি হব"—বিজ্ঞানের এই বৈশিষ্ট্যের সাথেই পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।
যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান, কারণ এটি চিন্তার সাধারণ ও মৌলিক নিয়মাবলি সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনা করে। এটি অনুমান এবং এর সহায়ক প্রক্রিয়াগুলো (যেমন: সংজ্ঞা, বিভাগ, ব্যাখ্যা ইত্যাদি) সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল নিয়ম প্রণয়ন করে সত্য অর্জনের পথ নির্দেশ করে। তাই পাঠ্যবইয়ের আলোকে জামালের বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক দিক বা তাত্ত্বিক রূপকে উপস্থাপন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জামাল যুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক দিক (তাত্ত্বিক বা সুশৃঙ্খল জ্ঞান) এবং কামাল এর ব্যবহারিক দিক অর্থাৎ কলা (জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা)-এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এই দুই দিকের সমন্বয়েই যুক্তিবিদ অলড্রিচের উক্তি—"যুক্তিবিদ্যা সকল বিজ্ঞানের বিজ্ঞান এবং সকল কলার কলা"—যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়।
বিজ্ঞান হিসেবে যুক্তিবিদ্যা বৈধ চিন্তার সাধারণ নিয়মাবলি আবিষ্কার ও প্রতিষ্ঠা করে। বিশ্বের যেকোনো বিশেষ বিজ্ঞানের (যেমন: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, অর্থনীতি ইত্যাদি) সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যার অনুমানের নিয়মাবলি অপরিহার্য। যুক্তিবিদ্যার সঠিক নিয়ম প্রয়োগ না করলে কোনো বিজ্ঞানই সত্যে উপনীত হতে পারে না। তাই যুক্তিবিদ্যাকে 'সকল বিজ্ঞানের বিজ্ঞান' বলা হয়। উদ্দীপকে জামাল এ ধরনের সুশৃঙ্খল ও সুনিশ্চিত জ্ঞানের কথাই বলেছে।
অপরদিকে, কলাবিদ্যা হলো অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করার কৌশল। কামাল যে বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের কথা বলেছে, তা মূলত কলাবিদ্যার পরিচায়ক। যুক্তিবিদ্যা কেবল তাত্ত্বিক নিয়ম তৈরি করেই থেমে থাকে না, বরং বাস্তব জীবনে সঠিক ও নির্ভুল যুক্তি গঠনের কৌশল এবং ভ্রান্ত যুক্তি পরিহারের নিয়ম শিক্ষা দেয়। যুক্তিবিদ্যা সব ধরনের কলাবিদ্যার (ব্যবহারিক জ্ঞানের) শুদ্ধতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে বলে একে 'সকল কলার কলা' বলা হয়।
সুতরাং উদ্দীপকের জামাল ও কামালের বক্তব্য যথাক্রমে বিজ্ঞান ও কলার স্বরূপকে নির্দেশ করে, যা প্রমাণ করে যে যুক্তিবিদ্যা কেবল একটি তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বা কেবল একটি ব্যবহারিক কলা নয়; বরং এটি যুগপৎ 'সকল বিজ্ঞানের বিজ্ঞান এবং সকল কলার কলা'।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও