বাংলা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখো:—
11.1.
ক. তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ
11.2.
খ. একুশের চেতনায় '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ
11.3.
গ. রোহিঙ্গা সমস্যা ও সমাধানের উপায়
11.4.
ঘ. মাদকাসক্তি ও আমাদের যুবসমাজ
11.5.
ঙ. রূপসী বাংলাদেশ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ
ভূমিকা:
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology বা IT)। তথ্যপ্রযুক্তি হলো তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং আদান-প্রদানের আধুনিক বৈজ্ঞানিক মাধ্যম। আজকের পৃথিবীতে শক্তির মানদণ্ড কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক প্রাচুর্য নয়, বরং তথ্যপ্রযুক্তিতে অর্জিত শ্রেষ্ঠত্ব। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা পেরিয়ে দেশ এখন 'স্মার্ট বাংলাদেশ'-এর ভিশন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ও বর্তমান অবস্থা:
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা ধীরগতির হলেও বিগত দুই দশকে তা অভাবনীয় গতি লাভ করেছে। সাবমেরিন কেবলের সাথে সংযোগ, ইন্টারনেট অবকাঠামোর বিস্তার, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ, ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কের প্রসার তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মহাকাশ প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবার আওতায় এসেছে।
শিক্ষা ও চিকিৎসায় তথ্যপ্রযুক্তি:
তথ্যপ্রযুক্তি বাংলাদেশের শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও আধুনিক রূপ দিয়েছে। অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া, ফলাফল প্রকাশ, ই-বুক এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবহার শিক্ষাকে সহজলভ্য করেছে। করোনাকালীন সময়ে অনলাইন ক্লাস শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল রেখেছিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারছে।
প্রশাসন ও নাগরিক সেবায় তথ্যপ্রযুক্তি (ই-গভর্ন্যান্স):
ই-গভর্ন্যান্স বা ডিজিটাল প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হয়েছে। জমি-জমার ই-পর্চা, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন, আয়কর রিটার্ন দাখিল ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো শত শত সেবা মানুষ এখন ঘরে বসেই গ্রহণ করছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোর মাধ্যমে তৃণমূলের মানুষ সহজে সরকারি সেবা পাচ্ছে।
অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা:
মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব এনেছে। অনলাইন কেনাকাটা বা ই-কমার্স এখন জীবনের নিয়মিত অংশ। দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান অনলাইন শ্রম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
চ্যালেঞ্জ ও সংকট:
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে সাথে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার। ইন্টারনেটে ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি এবং মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এছাড়া শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট গতির বৈষম্য (Digital Divide) এখনো সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব হয়নি।
উত্তরণের উপায়:
তথ্যপ্রযুক্তির সুফল নিশ্চিতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা আইন ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায়োগিক আইসিটি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
উপসংহার:
তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি। জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে তথ্যপ্রযুক্তির সুষ্ঠু বিকাশ অপরিহার্য। প্রযুক্তিকে উদ্ভাবনী কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আমাদের যুবসমাজকে এ প্রযুক্তির হাতিয়ারে দক্ষ করে গড়ে তুলে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও