পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
"প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।"
- ক)(1)
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট কয়টি আসন লাভ করে?
- খ)(2)
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ভাষাণটি কে এবং কোন প্রেক্ষাপটে দিয়েছিলেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ভাষণটি ছিল বাংলাদেশের পরোক্ষ স্বাধীনতার ঘোষণা- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (সংরক্ষিত ৭টি নারী আসনসহ) লাভ করে এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে মোট ২৯৮টি (সংরক্ষিত ১০টি নারী আসনসহ) আসন লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, শোষণ ও দমন-পীড়ন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ও তীব্র গণআন্দোলনকে বোঝায়। ছাত্র সমাজের ১১ দফা ও বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দি নিঃশর্ত মুক্তি পান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ভাষণটি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদান করেছিলেন।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক নেতারা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদের পূর্বনির্ধারিত অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র অসন্তোষ ও সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর টালবাহানা এবং আসন্ন সামরিক আক্রমণের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের করণীয় ও মুক্তির পথ নির্দেশ করতে রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক জনসভায় এই ভাষণ দেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ৭ই মার্চের ভাষণটি মূলত ছিল বাংলাদেশের পরোক্ষ বা অলিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা—উক্তিটি যথার্থ।
বঙ্গবন্ধু তাঁর এই ভাষণে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে বাঙালি জাতিকে স্পষ্ট বার্তা দেন। সরাসরি একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে বাঙালিদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যার বৈধতা দাবি করতে পারত। তাই বঙ্গবন্ধু কৌশলগতভাবে একদিকে শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং অন্যদিকে চূড়ান্ত সশস্ত্র সংগ্রামের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
ভাষণে তিনি বলেন, 'তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ।' এর মাধ্যমে তিনি জাতিকে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভাষণের শেষে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' এই আহ্বানের মধ্য দিয়েই সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মানসিক ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা পেয়েছিল। তাই বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরোক্ষ ও বলিষ্ঠ ঘোষণা ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও