সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রাফি এবং শুভ্র দুই বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে। রাফি যে বিষয়ে পড়ে তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো সমাজ। অপরদিকে শুভ্রর বিষয়টির মূল আলোচ্য বিষয় মানুষ ও তার সংস্কৃতি।
- ক)(1)
সমাজ বিজ্ঞানের জনক কে?
- খ)(2)
সমাজ বিজ্ঞান সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত রাফির অধ্যয়নের বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শুভ্র ও রাফির পঠিত বিষয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত - ব্যাখ্যা কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানের জনক হলেন ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞান হলো একমাত্র সামাজিক বিজ্ঞান যা সমাজকে একটি সামগ্রিক বা অখণ্ড রূপ হিসেবে অধ্যয়ন করে। অন্যান্য সামাজিক বিজ্ঞান যেমন অর্থনীতি কেবল মানুষের অর্থনৈতিক আচরণ নিয়ে বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান মানুষের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু সমাজবিজ্ঞান মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, কাঠামো, প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি, আচরণ এবং সামাজিক পরিবর্তনসহ সমাজের প্রতিটি দিককে সামগ্রিকভাবে ও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে। তাই সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাফির অধ্যয়নের বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান (Sociology)।
সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সম্পর্ক এবং মানুষের দলগত আচরণ নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক অনুসন্ধান চালায়। সমাজবিজ্ঞানের মূল উপজীব্য হলো সমাজবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক জীবনের সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করা।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে যে, রাফি যে বিষয়ে পড়ে তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো সমাজ। সমাজ সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ পাঠ কেবল সমাজবিজ্ঞানেই সম্ভব। সমাজবিজ্ঞান সমাজের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, কাঠামো, সামাজিক পরিবর্তন, সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করে। অতএব, রাফির অধ্যয়নের বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শুভ্রর পঠিত বিষয় নৃবিজ্ঞান (Anthropology) এবং রাফির পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞান (Sociology), যা পরস্পর অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
নৃবিজ্ঞান মানুষের উৎপত্তি, শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি এবং আদিম সমাজ নিয়ে আলোচনা করে। অপরদিকে, সমাজবিজ্ঞান আধুনিক ও জটিল সমাজব্যবস্থার গঠন, কার্যাবলি ও মানবীয় সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে। কিন্তু উভয় শাস্ত্রেরই মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সামগ্রিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে অনুধাবন করা।
সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক বহুমুখী:
১. সমাজবিজ্ঞান মানবসমাজের সংস্কৃতি ও আচরণ বুঝতে নৃবিজ্ঞানের নৃতাত্ত্বিক গবেষণা, ক্ষেত্রসমীক্ষা ও তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।
২. নৃবিজ্ঞান বর্তমান সমাজের জটিল সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রক্রিয়াগুলো মূল্যায়নের জন্য সমাজতাত্ত্বিক পদ্ধতি ও তত্ত্ব ব্যবহার করে।
৩. এই দুই শাস্ত্রের ঘনিষ্ঠতার ফলেই 'সামাজিক নৃবিজ্ঞান' (Social Anthropology) এবং 'সাংস্কৃতিক সমাজবিজ্ঞান'-এর মতো অভিন্ন অধ্যয়নের ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটেছে। একজন নৃবিজ্ঞানী সমাজবিজ্ঞানীর তত্ত্বের সাহায্য নেন এবং একজন সমাজবিজ্ঞানী মানব ইতিহাসের শেকড় ও সংস্কৃতির উন্মেষ বুঝতে নৃবিজ্ঞানীর সহযোগিতা নেন।সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, শুভ্র ও রাফির পঠিত বিষয় দুটি অর্থাৎ নৃবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক এবং পারস্পরিকভাবে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও