ভূগোল ১ম পত্র • ভূমিরূপ পরিবর্তন • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১: ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ ঝাকুনি অনুভূত হয়।ঘটনা-২: মোচাকৃতি পর্বতের জ্বালামুখ দিয়ে লাভা নির্গত হয়।
- ক)(1)
নগ্নীভবন কাকে বলে?
- খ)(2)
সূর্যের তাপ কীভাবে বিচূণীভবন ঘটায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ঘটনা-১ সংঘটনের কারণ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ঘটনা-২ এ ইঙ্গিতকৃত দুর্যোগ ভূপৃষ্ঠের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবহবিকার বা বিচূর্ণীভবনের ফলে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার পর নদী, বায়ু বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা অপসারিত হয়ে নিচের মূল শিলা উন্মুক্ত হয়ে পড়াকে নগ্নীভবন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দিনের বেলা তীব্র সূর্যতাপে শিলার বাইরের স্তর প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে প্রসারিত হয়। কিন্তু শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় ভেতরের স্তর সমানভাবে উত্তপ্ত বা প্রসারিত হতে পারে না। আবার রাতে দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শিলার বাইরের অংশ সংকুচিত হয়, কিন্তু ভেতরের অংশে পরিবর্তন হয় কম। প্রতিদিনের এরূপ অসম সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলাস্তরে পীড়ন সৃষ্টি হয়। ফলে শিলা ফেটে যায় এবং একপর্যায়ে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে বিচূর্ণীভবন ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভূত হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে 'ভূমিকম্প'।
ভূমিকম্প সংঘটনের প্রধান কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. প্লেট টেকটোনিকস বা পাত সঞ্চালন: ভূত্বক কতগুলো গতিশীল পাতের সমন্বয়ে গঠিত। এসব পাতের পারস্পরিক সংঘর্ষ, অপসরণ বা পাশাপাশি ঘর্ষণের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচুর শক্তি জমা হয় এবং হঠাৎ তা মুক্ত হয়ে প্রচণ্ড ভূকম্পন সৃষ্টি করে।
২. শিলাচ্যুতি ও ভূ-আলোড়ন: ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক শক্তির প্রভাবে শিলাস্তরে ফাটল বা চ্যুতি সৃষ্টি হলে শিলাপিণ্ড হঠাৎ স্থানচ্যুত হয়, যার ফলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
৩. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: ভূ-অভ্যন্তর থেকে প্রচণ্ড চাপে লাভা, গ্যাস ও বাষ্প বের হওয়ার সময় তীব্র আলোড়নে আশপাশের ভূত্বক কেঁপে ওঠে।
৪. ভূগর্ভস্থ বাষ্পের চাপ ও ভূ-ধস: ভূ-অভ্যন্তরে অতিরিক্ত তাপের কারণে জলীয় বাষ্প সৃষ্টি হয়ে ওপরের দিকে ধাক্কা দিলে কিংবা পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের ধস নামলেও ভূমিকম্প ঘটতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ঘটনা-২ এ মোচাকৃতি পর্বতের জ্বালামুখ দিয়ে লাভা নির্গমনের ঘটনাটি 'আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত'কে নির্দেশ করে। এটি একটি আকস্মিক ভৌগোলিক প্রক্রিয়া যা ভূপৃষ্ঠের দ্রুত ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পর্বত ও মালভূমি সৃষ্টি: অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে নির্গত লাভা, ছাই ও ভস্ম জ্বালামুখের চারপাশে ক্রমাগত সঞ্চিত হয়ে মোচাকৃতি বা শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয় পর্বত (যেমন- ইতালির ভিসুভিয়াস, জাপানের ফুজিয়ামা) সৃষ্টি করে। এছাড়া বিস্তৃত লাভা প্রবাহ শীতল হয়ে সুবিশাল লাভা মালভূমির (যেমন- ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি) সৃষ্টি করে।
২. নতুন দ্বীপ ও ভূভাগ গঠন: সমুদ্রের তলদেশে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে জমাটবদ্ধ লাভা সঞ্চিত হয়ে নতুন দ্বীপ তৈরি হয়। যেমন- প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এভাবে গঠিত হয়েছে।
৩. হ্রদের সৃষ্টি: অগ্ন্যুৎপাত বন্ধ হয়ে গেলে অনেক সময় আগ্নেয় পর্বতের জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে জ্বালামুখ হ্রদ বা ক্যালডেরা হ্রদের সৃষ্টি হয় (যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের ক্র্যাটার লেক)।
৪. নদীর গতিপথ পরিবর্তন: লাভা ও ভস্মের প্রবাহ নদী বা জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারে অথবা কৃত্রিম বাঁধ তৈরি করে জলাশয়ের সৃষ্টি করে।
৫. ক্ষয় ও ধ্বংসলীলা: অগ্ন্যুৎপাতের বিস্ফোরণে পর্বতের চূড়া উড়ে গিয়ে ভূমিরূপের ব্যাপক ধস নামে এবং চারপাশের উদ্ভিদ, জীবজগৎ ও মানববসতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে ভূদৃশ্যের চিরতরে রূপবদল ঘটে।
অতএব, অগ্ন্যুৎপাত একাধারে ধ্বংসাত্মক এবং নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টিকারী প্রক্রিয়া হিসেবে ভূপৃষ্ঠে গভীর ও ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও