পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব সাদমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক বীরযোদ্ধা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণের রক্ষা করার জন্য তিনি লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গও নির্মাণ করেন। ফলে জমিদারদের সাথে তার বাহিনীর যুদ্ধ হলে তার বাহিনী পরাজিত হয় এবং তিনি শহীদ হন।
- ক)(1)
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
- খ)(2)
শিক্ষা বিস্তারে এ. কে. ফজলুল হকের অবদান লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাজনৈতিক নেতার সাথে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত নেতার অবদান পাঠ্য বইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা হলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা বিস্তারে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি অবিভক্ত বাংলার শিক্ষামন্ত্রী এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে মুসলমানদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করেন। তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, ঢাকা ইডেন কলেজ, লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ফজলুল হক মুসলিম হল এবং ওয়াজেদ আলী মেমোরিয়াল হাইস্কুলসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার আইনও তিনি প্রণয়ন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী 'তিতুমীর' (সৈয়দ মীর নিসার আলী)-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের জনাব সাদমান একজন দেশপ্রেমিক বীরযোদ্ধা, যিনি অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন এবং প্রশিক্ষণের জন্য দুর্গ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে পরাজিত ও শহীদ হন।
ঐতিহাসিকভাবে তিতুমীরও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক এবং অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের নিপীড়ন-শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি অনুসারীদের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বাঁশের কেল্লা (একটি শক্তিশালী দুর্গ) নির্মাণ করেন এবং নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন। ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর ব্রিটিশ সৈন্য ও জমিদারদের সম্মিলিত বাহিনীর কামানের গোলার মুখে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে বাঁশের কেল্লাতেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি শহীদ তিতুমীরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঔপনিবেশিক শাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শহীদ তিতুমীরের অবদান অবিস্মরণীয়। নিম্নে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করা হলো:
১. শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: তিতুমীর তৎকালীন কৃষক ও তাঁতিদের উপর জমিদারদের আরোপিত অযৌক্তিক কর (যেমন দাড়ির ওপর কর) এবং মহাজনদের চরম সুদের বিরুদ্ধে প্রথম বলিষ্ঠ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
২. মুসলিম সমাজের সংস্কার ও জাগরণ: তিনি সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে আত্মমর্যাদাবোধে বলীয়ান করেন এবং ব্রিটিশ ও জমিদারদের নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।
৩. বাঁশের কেল্লা নির্মাণ ও সশস্ত্র সংগ্রাম: ব্রিটিশদের আধুনিক অস্ত্রের মোকাবেলায় তিনি নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করে প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তোলেন এবং সাধারণ লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরাক্রমশালী ব্রিটিশ বাহিনীর মুখোমুখি হন।
৪. জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ: তিতুমীরের আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে ভারতবর্ষের কৃষক আন্দোলন এবং ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সাহস ও প্রেরণার মূল উৎস হয়ে দাঁড়ায়।অতএব, তিতুমীর কেবল একজন প্রতিরোধকারী নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাঙালি মুক্তির চেতনার প্রথম সারির অগ্রদূত। তাঁর আত্মত্যাগ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও