বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শাকিল ও নাফিজ বাল্যবন্ধু, দুজনের মধ্যে গলায় গলায় ভাব। অবস্থাসম্পন্ন নাফিজ একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চালু করে, তাতে শাকিলকে ম্যানেজার নিয়োগ করে। নিয়োগ পাওয়ার পর শাকিল প্রতিষ্ঠানের টাকা নয়ছয় করে। বিষয়টি নাফিজ জানতে পেরে বন্ধুকে সতর্ক করে। শাকিল কথা দেয়, সে আর এ ধরনের অনিয়ম করবে না। নাফিজ সন্তুষ্ট হয়। নাফিজ ব্যবসায়ের কাজে বিদেশ গেলে শাকিল ষড়যন্ত্র করে প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দেয়।

  1. ক)

    রাইসুল জুহালা কে?

    (1)
  2. খ)

    "যুদ্ধ করো, প্রাণপণে যুদ্ধ করো।"—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শাকিল 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "অন্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস মানুষকে অনেক সময় বিপদে ফেলতে পারে।"—মন্তব্যটি উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক অবলম্বনে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাইসুল জুহালা হলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশ্বস্ত ও দুঃসাহসী গুপ্তচর নারায়ণ সিংহ (বা মীরমর্দানের গুপ্তচর হিসেবেও পরিচিত)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "যুদ্ধ করো, প্রাণপণে যুদ্ধ করো"—উক্তিটি দ্বারা দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীরমর্দান পলাশীর প্রান্তরে সৈন্যদের প্রতি মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার চরম আহ্বান ব্যক্ত করেছেন।

    পলাশীর প্রান্তরে প্রধান সেনাপতি মীর জাফর যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজ সৈন্যদলকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল, তখন দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীরমর্দান ও মোহনলাল বুঝতে পেরেছিলেন যে দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন। তাই মীরমর্দান পলাশীর প্রান্তরে নিজের জীবন বাজি রেখে সৈন্যদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ইংরেজ বাহিনীকে রুখে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শাকিল চরিত্রটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রধান বিশ্বাসঘাতক চরিত্র মীর জাফরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, আলীবর্দী খাঁ এবং পরবর্তীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মীর জাফরকে বিশ্বাস করে সর্বোচ্চ সামরিক পদ—প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। কিন্তু মীর জাফর ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার লালসায় নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে রবার্ট ক্লাইভ ও ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করে। নবাব বারবার তার দোষ ক্ষমা করে পবিত্র কোরআন ছুঁইয়ে বিশ্বাস করলেও সে সুযোগ বুঝে নবাবের পিঠে ছুরিকাঘাত করে দেশকে ইংরেজদের হাতে তুলে দেয়।

    উদ্দীপকের শাকিলও বাল্যবন্ধু নাফিজের বিশ্বাস ও উদারতার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করে। নাফিজ তাকে ক্ষমা করে পুনরায় বিশ্বাস করলেও শাকিল কৃতঘ্নতার পরিচয় দিয়ে নাফিজের অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে দেয়। শাকিলের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও অকৃতজ্ঞতা মীর জাফরের চরিত্রের অন্যতম প্রধান দিক, তাই শাকিল চরিত্রটি মীর জাফরের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "অন্যের প্রতি অগাধ বিশ্বাস মানুষকে অনেক সময় বিপদে ফেলতে পারে"—মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।

    উদ্দীপকে নাফিজ তার বাল্যবন্ধু শাকিলকে অগাধ বিশ্বাস করে নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেয়। এমনকি শাকিলের প্রথম দফার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েও নাফিজ সতর্ক করে তাকে ক্ষমা করে দেয় এবং পুনরায় বিশ্বাস করে। নাফিজের এই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই শাকিল শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে তাকে চরম আর্থিক ও মানসিক বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।

    একইভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা সেনাপতি মীর জাফরের বারবার রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা ধরা পড়ার পরও তার অনুশোচনায় বিগলিত হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। এমনকি চরম সংকটের মুহূর্তে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করিয়ে মীর জাফরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস রেখে পলাশীর যুদ্ধের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেন। নবাবের এই অতিরিক্ত বিশ্বাস ও মহানুভবতার সুযোগ নিয়ে মীর জাফর যুদ্ধের ময়দানে নবাব বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখে, যার ফলে নবাবের পরাজয় ও বাংলার স্বাধীনতা হরণ ঘটে।

    অতএব, সতর্কতা ও বাস্তবতা বিবর্জিত অতিরিক্ত বিশ্বাস যে একজন ব্যক্তির পাশাপাশি সমগ্র জাতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন