বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আব্দুল করিম আমলাগাছী গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সে মাঠে ফসল ফলায়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলালেও সংসার ঠিকমতো চালাতে পারে না সে। পরিবারের সকলের চাহিদা মেটানো তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এত পরিশ্রম করেও নুন আনতে পানতা ফুরানোর মতো অবস্থা তার।
- ক)(1)
একখানা 'এন্ডি' কাপড় অবাধে কত বছর টেকে?
- খ)(2)
'পাছায় জোটে না ত্যানা"- কারণগুলো তুলে ধরো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'নূন আনতে পান্তা ফুরায়'- 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধ অনুযায়ী একখানা 'এন্ডি' কাপড় অবাধে ত্রিশ বছর টেকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প ধ্বংস হওয়া এবং চাষিদের চরম দারিদ্র্যের কারণে তাদের গায়ে বা নিম্নাঙ্গে ন্যূনতম লজ্জানিবারণের কাপড় না জোটায় 'পাছায় জোটে না ত্যানা' বলা হয়েছে।
অতীতে বাংলার কৃষাণীরা নিজেরাই তুলার চরকায় সুতা কেটে এবং রেশম বা এন্ডি পোকা পুষে কাপড় তৈরি করত, ফলে তাদের কাপড়ের অভাব হতো না। কিন্তু মিলের তৈরি বিদেশি সস্তা সুতা ও বস্ত্রের আগমনে দেশি কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে কঠোর পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করেও কৃষকরা নিজেদের ন্যূনতম কাপড়টুকু পর্যন্ত কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের কৃষকদের দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি করা সত্ত্বেও চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনে দিন কাটানোর দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাংলার কৃষক শ্রেণির করুণ জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। কৃষক সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে সোনার ফসল ফলায় এবং জগতের মানুষের আহারের জোগান দেয়। অথচ সেই অন্নদাতা চাষির ঘরেই থাকে অন্নের হাহাকার এবং পরনে থাকে না সামান্য লজ্জা নিবারণের বস্ত্র।
উদ্দীপকের কৃষক আব্দুল করিমও দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে ফসল ফলায়। কিন্তু এত পরিশ্রমের পরেও সে পরিবারের নূন্যতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না; সংসার চলে তীব্র অভাব ও দারিদ্রে। কৃষকের এই অক্লান্ত শ্রম এবং বিনিময়ে অর্জিত চরম বঞ্চনা ও দারিদ্র্যের বাস্তবতাই উদ্দীপক ও 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের প্রধান সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নূন আনতে পান্তা ফুরায়' প্রবাদটি 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে বর্ণিত কৃষক সমাজের চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশা ও তীব্র খাদ্যসংকটের নির্মম সত্যকেই নির্দেশ করে।
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধে লেখিকা অত্যন্ত বেদনাভরে দেখিয়েছেন যে, যারা আমাদের অন্নদাতা, সেই কৃষকদের ভাগ্যে দুবেলা পেট ভরে ভাত জোটে না। তারা কায়িক শ্রম দিয়ে ধান উৎপাদন করে সারা বিশ্বের ক্ষুধা নিবারণ করলেও তাদের নিজেদের ঘরে নুন আর পান্তা ভাতের মতো অতি সাধারণ আহারের সংস্থানটুকুও থাকে না। সামান্য লবণ কেনার সামর্থ্যও চাষির থাকে না। ফলে অনাহার, অর্ধাহার ও পুষ্টিহীনতাই তাদের চিরসাথী হয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকের আব্দুল করিমের অবস্থাও অবিকল তা-ই। সে অক্লান্ত পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের মুখে ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে পারে না এবং নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো চরম সংকটে দিনাতিপাত করে। সুতরাং, প্রবাদটি বাংলার নিপীড়িত ও বঞ্চিত কৃষক সমাজের নিত্যদিনের অবর্ণনীয় দারিদ্র্য ও বঞ্চনার জীবন্ত দলিল হিসেবে 'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের আলোকে সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও